রাজশাহী সিটির টাকায় মাঠ, ফুটবল একাডেমি দখলে
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী :
রাজশাহীতে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প ছাড়াই প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে খেলার মাঠ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে। প্রায় ছয় বিঘা জমির ওপর নির্মিত আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মাঠটির প্রায় চার বিঘাই ব্যক্তি মালিকানাধীন। জমি কেনার চুক্তি করেও মালিকদের পাওনা পরিশোধ না করে জমি দখলে নিয়ে উন্নয়নকাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অন্যদিকে, সিটি করপোরেশনের অর্থে নির্মিত মাঠটিও এখন করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
‘কিশোর ফুটবল একাডেমি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান মাঠটি ব্যবহার করে বছরজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে ফুটবল প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্প পরিচালনা করছে।
এতে সাধারণ শি-শু-কিশোর ও নগরবাসীর মাঠ ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে অভিযোগ।
নগরীর পদ্মাতীরবর্তী হাইটেক পার্কের সীমানায় পদ্মা নদীর কোলঘেঁষে মাঠটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ছয় বিঘা জমির ওপর নির্মিত মাঠে বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ কাজে সিটি করপোরেশনের প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
তবে মাঠ নির্মাণে কোনো অনুমোদিত প্রকল্প ছিল না বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। কোন খাতের অর্থ থেকে এই বিপুল টাকা ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, মাঠের প্রায় চার বিঘা জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন। জমিগুলো কেনার জন্য ২০২৩ সালের ১ মার্চ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মালিকদের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী জমির মূল্য পরিশোধের কথা থাকলেও তা না দিয়েই জমি দখলে নিয়ে উন্নয়নকাজ শুরু করা হয়।
জমির মালিক গাজী সালাহউদ্দিন ও রানী খাতুনের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চুক্তির অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে কমিশন দাবি করেছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি ঝুলে থাকে।