তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

রায়পুরে মাছ শিকারের আড়ালে প্রবাসীদের বাড়িতে অভিনব কায়দায় চুরি- ভেন্টিলেটর ভেঙে ও গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ, টার্গেট প্রবাসীদের বাড়ি 

Desk Editor ৩৪ দিন আগে | ০১:৫০ PM

রায়পুরে মাছ শিকারের আড়ালে প্রবাসীদের বাড়িতে অভিনব কায়দায় চুরি- ভেন্টিলেটর ভেঙে ও গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ, টার্গেট প্রবাসীদের বাড়ি 

 

মো: নাজিম হোসেন

রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি:

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাছ শিকারের আড়ালে অভিনব কায়দায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গভীর রাতে মাছ ধরার সরঞ্জাম, টর্চলাইট ও টেঁটা হাতে খাল-বিল ও পুকুরপাড়ে ঘোরাফেরা করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পরে সুযোগ বুঝে বিভিন্ন এলাকার, বিশেষ করে প্রবাসীদের বাড়ি টার্গেট করে ভেন্টিলেটর ভেঙে, জানালার গ্রিল কেটে কিংবা টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

 

সম্প্রতি রায়পুর পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। চুরির পর ঘটনাস্থলে মাছ শিকারের সরঞ্জাম বা মাছ ধরার আলামত পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলেও জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

 

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গভীর রাতে খাল-বিল, পুকুর কিংবা বাড়ির আশপাশে টর্চলাইট হাতে মাছ ধরার টেঁটা নিয়ে কয়েকজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে অবস্থান করছে—এমনটাই মনে করেন স্থানীয়রা।

 

বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি আশপাশের বাড়িঘরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। কোনো বাড়িতে মানুষ কম থাকে, কোনো বাড়ির সদস্যরা প্রবাসে থাকেন কিংবা রাতে বাড়িটি তুলনামূলক নির্জন থাকে—এসব বিষয় লক্ষ্য করে তারা টার্গেট নির্ধারণ করে।

 

পরে গভীর রাতে সুযোগ বুঝে ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালার গ্রিল কিংবা টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোরেরা। ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে তারা।

বিজ্ঞাপন

 

চুরির শিকার একাধিক ভুক্তভোগী জানান, অনেক ক্ষেত্রে ঘরের দরজা-জানালা অক্ষত থাকলেও ভেন্টিলেটর, গ্রিল কিংবা টিন কেটে চোরেরা ভেতরে প্রবেশ করেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন এবং মালামাল তছনছ অবস্থায় দেখতে পান তারা।

 

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী সাহানা আক্তার বলেন, আমি মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল এসে ❝দেখি ঘরের ভেন্টিলেটর ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করছি, গভীর রাতে চোরেরা ঘরে ঢুকে এসব নিয়ে গেছে।

 

আরেক ভুক্তভোগী জানান, ❝আমাদের বাড়ির আশপাশে রাতের বেলায় অপরিচিত লোকজনকে মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। আগে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও এখন চুরির ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

 

এ ধরনের চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারের কোনো সদস্য প্রবাসে থাকেন এবং বাড়িতে নারী, শি-শু কিংবা বয়স্ক সদস্যরা থাকেন, তাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের বেলায় অপরিচিত ব্যক্তিরা মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে ঘোরাফেরা করলেও তাদের গতিবিধি অনেক সময় সন্দেহের আওতায় আসে না। ফলে মাছ ধরার অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে কেউ বাড়িঘর পর্যবেক্ষণ করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মুরাদ হোসেন বলেন, ❝রাতে পুকুর বা খালের পাশে মানুষ মাছ ধরবে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু একইভাবে অপরিচিত লোকজন যদি বিভিন্ন বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করে, তাহলে বিষয়টি নজরে রাখা প্রয়োজন। কয়েকটি চুরির ঘটনার পর এখন সবাই সতর্ক হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

 

অপর স্থানীয় বাসিন্দা মনুহার হোসেন বলেন, ❝প্রবাসীদের বাড়িগুলো অনেক সময় রাতে নির্জন থাকে। এসব বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা দরকার। পাশাপাশি রাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশকে দ্রুত জানানো উচিত।

 

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের ধারণা, প্রবাসীদের অনেক বাড়িতে দীর্ঘ সময় পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকেন অথবা বাড়িতে শুধু নারী ও বয়স্ক সদস্যরা অবস্থান করেন। এ কারণে এসব বাড়িকে চোরেরা সহজ টার্গেট হিসেবে বেছে নিতে পারে।

 

তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা চক্রকে চুরির সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

 

এ বিষয়ে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, ❝চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেলে পুলিশ তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে । রাতে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের চলাচল সম্পর্কে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে।তিনি আরও বলেন, ❝চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। কোনো ধরনের অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

 

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা বলছেন, রাতের বেলায় বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পুলিশি টহল বাড়ানো, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাড়ির মালিকদেরও রাতে দরজা-জানালা, ভেন্টিলেটর ও গ্রিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

একই সঙ্গে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে গভীর রাতে বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করলে তাকে সন্দেহের চোখে না দেখে অন্তত তার পরিচয় ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে সতর্কভাবে খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

বিজ্ঞাপন

 

পরপর এমন চুরির ঘটনায় রায়পুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন রাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাছ শিকারের আড়ালে কেউ চুরি বা অপরাধের প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ