তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে রোগী ৮৭, ছাদে ফাটল, বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা

Desk Editor ৪ দিন আগে | ০৫:১২ PM
সংগ্রহে: 0-3840×2174-0-0-{}-0-12#

0-3840×2174-0-0-{}-0-12#

নজরুল ইসলাম, লামা, বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৮৭ জন। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় শি-শু, নারী, বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের রোগীদের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। জরুরি বিভাগের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে, আর নিচতলার ছাদ থেকেও ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ছে। এর সঙ্গে দুই বছরের বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা, ভবন সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি। ফলে সব রোগীকে শয্যা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে শি-শু, নারী ও বয়স্ক রোগীদের মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগীদের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি তাঁদের স্বজনদেরও নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শয্যা ও পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ছাদে ফাটল এবং নিচতলার ছাদ থেকে পানি পড়ার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবন-টির প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো সংস্কার না হলে চিকিৎসাসেবার পরিবেশ আরও প্রতিকূল হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম চিকিৎসকদের

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোলাইমান আহমেদ বলেন, রোগীর চাপের কারণে বেডিং, চিকিৎসাসেবা প্রদান ও ওষুধ সরবরাহ করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সীমিত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

৩১ শয্যার জনবল কাঠামো, হাসপাতাল ৫০ শয্যার

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, ❝৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী নিয়োগ পেয়েছি। এখন হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও সেই অনুযায়ী কর্মচারী বাড়ানো হয়নি। খুব কষ্টে কাজ করছি।

কর্মচারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, শয্যাসংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় জনবল না বাড়ায় বিদ্যমান কর্মীদের ওপর বাড়তি দায়িত্বের চাপ পড়ছে। ফলে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকা। দুই বছরের বেশি সময় ধরে এ সেবা বন্ধ থাকায় জরুরি রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রোগীদের জন্য দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু লামা উপজেলার মানুষের জন্য নয়, আশপাশের দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসাসেবারও গুরুত্বপূর্ণ ভরসা। রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ সরবরাহ, জনবল বৃদ্ধি এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

চিঠি দিয়েও মিলছে না সমাধান

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, ❝স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ করে যাচ্ছি, কোনো ফলাফল পাচ্ছি না।

হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব সমস্যার সমাধানে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় সংকট রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে, রোগীর তুলনায় অপর্যাপ্ত শয্যা, জনবল সংকট, ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা এবং দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকার কারণে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে হাসপাতালটির অবকাঠামো সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি, শয্যাসংখ্যা সম্প্রসারণ ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ