লামা সহকারী তথ্য অফিসারের ফেসবুক পোস্টে মা-দকবিরোধী কলাম ভাইরাল
নজরুল ইসলাম (লামা, বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
মা-দকবিরোধী সচেতনতা ও মা-দকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে লেখা একটি কলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কলামটি লিখেছেন মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেল, সহকারী তথ্য অফিসার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁর ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত ❝মা-দক বন্ধ হবে কীভাবে—যখন মা-দক ঘিরেই গড়ে উঠে অর্থনৈতিক স্বার্থের চক্র? শিরোনামের লেখাটি ইতোমধ্যে পাঠকদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কলামটিতে লেখক মা-দকের ভয়াবহতার পাশাপাশি মা-দককে ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক স্বার্থের চক্র, সীমান্ত দিয়ে মা-দক প্রবেশ, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা, মা-দক ব্যবসার অর্থের গতিপথ এবং মা-দকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন।
লেখক তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, কক্সবাজারের মানুষ হিসেবে তিনি মা-দকের ভয়াবহতা কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর মতে, মা-দকের বিস্তার কমানো গেলে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সহিংসতা ও পারিবারিক অশান্তিসহ মা-দকসংশ্লিষ্ট অনেক অপরাধও কমিয়ে আনা সম্ভব।
কলামটিতে ২০২০ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মা-দকাসক্তি ও অপরাধের মধ্যকার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিয়ে মা-দকের কারণে পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতার ভয়াবহতাও তুলে ধরা হয়।
লেখাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—❝শুধু বাহক ও খুচরা বিক্রেতারাই কেন ধরা পড়বে? মা-দকের অর্থদাতা, মূল হোতা, পৃষ্ঠপোষক ও রক্ষাকারীরা কোথায়?
মা-দকবিরোধী কার্যক্রমকে শুধু মা-দক উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মা-দকের অর্থের গতিপথ অনুসরণ, অর্থদাতা ও মূল হোতাদের শনাক্তকরণ, আর্থিক তদন্ত জোরদার, তদন্ত ও আলামত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন লেখক।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ দক্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি, মা-দকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং পর্যটন এলাকায় মা-দক ও ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারির প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ❝মা-দকের টাকাও অনুসরণ করতে হবে—এই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে। লেখকের মতে, মা-দকবিরোধী লড়াই সফল করতে হলে শুধু মা-দক ও বাহক নয়, এর পেছনের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ও স্বার্থের চক্রও চিহ্নিত করা জরুরি।
কলামটির শেষাংশে বলা হয়েছে, মা-দকবিরোধী লড়াইকে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অভিযান হিসেবে না দেখে জাতীয় নিরাপত্তা, জননিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর পাঠকদের অনেকে মা-দক নিয়ন্ত্রণে মূল হোতা ও অর্থের উৎস শনাক্ত করার দাবি এবং লেখকের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করছেন।
কলাম লেখক:
মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেল
সহকারী তথ্য অফিসার
সাবেক শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়