সারা দেশের সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ।
মিনার আলম আকাশ, রাজশাহী :
চার দফা দাবিতে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটিই)-এর বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মা-রধরের অভিযোগে রেললাইন অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন চারুকলা এলাকার রেললাইনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী স্টেশন ছেড়ে যেতে পারেনি।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেললাইন অবরোধ করে রাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ভুক্তভোগী আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন জানান, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফেরার পথে তিনি কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের ঘটনা দেখতে পান। এর প্রতিবাদ করলে দায়িত্বরত এক টিটিই তাকে মা-রধর করেন।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে নিয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কার্যালয়ে অভিযোগ জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- অভিযুক্ত টিটিইকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করা, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা, শিক্ষার্থীকে হত-্যাচেষ্টার অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সব দূরপাল্লার ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করা।
আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, একজন শিক্ষার্থী সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় মা-রধরের শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত টিটিইকে আইনের আওতায় আনা না হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের ওপর দিয়ে কোনো ট্রেন চলতে দেওয়া হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে টিটিই মা-রধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে রেল অবরোধের কারণে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। রেল কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
এদিকে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপা-চার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, উপ-উপা-চার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম এবং উপ-উপা-চার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদ। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।