তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

হাঁসের ভ্রাম্যমাণ খামারে ইউনূসের ভাগ্যবদল

শাহ আলম সরকার (উল্লাপাড়া):

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলা চাকসা গ্রামের আয়নালের ছেলের খামারের হাঁসে জীবন হাসে ইউনূসের। ভ্রাম্যমাণ হাঁসের খামার করে জীবন বদলে গেছে ইউনূসের। উপজেলা মধ্যে যে কয়েকজন হাঁস খামারীরা আছে ইউনূস তাদের মধ্যে অন্যতম।
নদী, হাওর বা বিলের পানিতে হাঁস নিয়ে ঘুরে ঘুরে পালন করার একটি লাভজনক পদ্ধতি হলো ভ্রাম্যমান হাঁসের খামার। এতে স্থায়ী ঘরের প্রয়োজন হয় না এবং প্রাকৃতিকভাবে শামুক, ছোট মাছ ও জলজ উদ্ভিদ খাওয়ায় খাবারের খরচ প্রায় ৭০% কমে যায়। ফলে খামারিদের ব্যাপক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
উল্লাপাড়া পৌর শহর থেকে বড়পাঙ্গাসী সড়কপথে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। লাহিড়ী মোহনপুর রোড হয়ে এই পথ পাড়ি দিয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কাশেম বিলে ইউনূসের ভ্রাম্যমান হাসের খামার। সেখানে দিনের বেলা পানিতে ঝাঁকে ঝাঁকে হাঁস সাঁতার কাটছে, ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছে কিংবা ডুব দিয়ে খাবার তুলে আনছে।
ইউনূসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তাঁর খামারে রয়েছে ১৭০০টি হাঁস। হাঁস খামার তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে, ঘুচিয়েছে বেকারত্ব। সংসারে এনেছে সচ্ছলতা।
ইউনূস বলেন, তাঁর ছিল অভাবের সংসার। নিত্য দারিদ্র্যের সঙ্গে বসবাস। তিনি মাছের ব্যবসার পাশাপাশি গরুর ব্যবসা করতেন। তবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা তাঁর ছিল। ছিল দারিদ্র্য জয়ের স্বপ্ন। অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন ছুঁতে পারছিলেন না। তাই তিনি হঠাৎ করে হাঁসের খামারের চিন্তা করেন এবং হাঁসের খামার করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে হাঁসের খামার করে আসছেন। তিনি বলেন, বিলে বা নদীর তীরে হাঁসের খামার গড়ে তুলতে তেমন একটা খরচের প্রয়োজন পড়ে না। অল্প খরচে লাভও হয় দ্বিগুণ। খামারে একটি হাঁসের জন্য যে পরিমাণ খরচ হয়, খোলা বিলে তা অর্ধেকেরও কম। কারণ বিলে হাঁস শামুকসহ বিভিন্ন খাবার সহজেই পায়। ফলে হাঁসের জন্য বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয় না। হাঁস রাখার জন্য কোনো ঘর বানাতে হয় না। বাঁধের ওপর পলিথিন দিয়ে সামান্য খরচে হাঁস রাখার জায়গা বানানো যায়। খোলা বিলে একটি হাঁসের জন্য মাসে খরচ হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। চার থেকে পাঁচ মাস পর হাঁস ডিম দিতে শুরু করে। ক্যাম্বেল জাতের প্রতিটি হাঁস বছরে ২৫০ থেকে ২৮০টি পর্যন্ত ডিম দেয়। বর্ষা মৌসুমে তাঁর ছয় মাস কাটে বিলের বাঁধে। যখন হাঁসের ডিম দেওয়া একেবারে কমে যায়, তখন হাঁস বিক্রি করে দেন। এতে বছরে তাঁর লাভ হয় আট থেকে দশ লাখ টাকা।
তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে যেন হাসের চিকিৎসা সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ এবং বিকল্প খাদ্যের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্ষা মৌসুমে প্রাকৃতিক খাবারের অভাব, রোগব-ালাই বৃদ্ধি ও বাজার দর অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের সম্মুখীন হয়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ