৩০ ঘন্টার ব্যবধানে জীবন উলটপালট আল আমিনের, গর্বতী স্ত্রীকে ডেংগুতে গর্বের অনাগত সন্তান সহ হারিয়ে দিশেহারা।
ডেস্ক রিপোর্ট খবর টিভি:
১৩ ঘণ্টায় স্ত্রী-অনাগত সন্তানকে হারালেন আল আমিন, হাসপাতালের পথে ৯ বছরের ছেলেও ডেঙ্গু আক্রান্ত
মাত্র ১৩ ঘণ্টা—একজন মানুষের পুরো জীবনটাকে ওলটপালট করে দেওয়ার জন্য কখনো কখনো এই সময়টুকুই যথেষ্ট।
ছবির এই মানুষটির নাম আল আমিন।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন তাঁর ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে। হারিয়েছেন পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা অনাগত সন্তানকেও।
স্ত্রীর মর-দেহ দা-ফনের কাজটুকুও ঠিকমতো শেষ করতে পারেননি। এর মধ্যেই আবার ছুটতে হয়েছে হাসপাতালে—কারণ এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত তাঁর ৯ বছরের সন্তান।
একদিকে সদ্য হারানো স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের শোক, অন্যদিকে অসুস্থ সন্তানকে বাঁচানোর উৎকণ্ঠা—একজন বাবার জীবনে এর চেয়ে নির্মম বাস্তবতা আর কী হতে পারে?
কিন্তু আল আমিনের এই কান্না কি আমাদের কানে পৌঁছাচ্ছে?
প্রতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। পরিবার হারাচ্ছে তাদের প্রিয়জন। কোনো মা হারাচ্ছেন সন্তান, কোনো সন্তান হারাচ্ছে বাবা-মা, কোনো স্বামী হারাচ্ছেন স্ত্রী। অথচ ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ে আমাদের সামগ্রিক তৎপরতা কেন বারবার প্রশ্নের মুখে পড়ছে—সেই প্রশ্ন-টি যেন আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
আমাদের গণমাধ্যমের বড় একটি অংশ কখনো ব্যস্ত থাকে ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা খুঁটিনাটি আলোচনায়, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাও অনেক সময় আটকে থাকে সাময়িক ভাইরাল ইস্যুতে।
কিন্তু আল আমিনের মতো অসংখ্য মানুষের কান্না?
সেটি কি ভাইরাল না হলে আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়?
কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এলে প্রশাসনের নজর পড়ে, তদন্তের গতি বাড়ে, অনেক সময় ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ তৈরি হয়। কিন্তু যে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন নীরবে ভোগেন, যাদের গল্প ভাইরাল হয় না—তাদের জন্য কি রাষ্ট্রের দায়িত্ব কমে যায়?
ডেঙ্গু কোনো একদিনের ঘটনা নয়। এটি প্রতিবছর ফিরে আসে। আর তার সঙ্গে ফিরে আসে অসংখ্য পরিবারের কান্না।
আজ আল আমিনের ঘরে শোক।
আজ তাঁর সন্তান হাসপাতালের বিছানায়।
কিন্তু আগামীকাল?
এই প্রশ্ন-টি শুধু আল আমিনের পরিবারের নয়—আমাদের সবার।
আজ আমরা যদি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দাবিতে সোচ্চার না হই, তাহলে আগামীকাল এমন কোনো সংবাদ হয়তো আমাদের নিজেদের ঘর থেকেই আসতে পারে।
তাই এখন সময় ভাইরাল হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে কথা বলার।
সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি তোলার।
সময় জনপ্রতিনিধি, সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, গণমাধ্যম ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আরও জোরালোভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানোর।
কারণ একটি পরিবারের কান্না তখনই শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, যখন সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
মানুষের জীবন—ভাইরাল হওয়ার আগেই গুরুত্বপূর্ণ।
আল আমিনের পরিবারের জন্য আমাদের গভীর সমবেদনা।
আর তাঁর অসুস্থ সন্তানের জন্য রইল সুস্থতার প্রত্যাশা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনই আওয়াজ তুলুন।
কারণ পরের কান্নাটা যেন আর কোনো আল আমিনের না হয়।