বর্ষার আগমনে চলনবিল এখন কানায় কানায় পূর্ণ। বিলের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রাস্তাগুলো যেন একেকটি জলপথ। আর এই রূপসী চলনবিলকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে প্রতিদিন বিকেল হলেই ভিড় জমছে পর্যটকদের। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল ডুবন্ত রাস্তাটি এখন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিন বিকেল গড়াতেই কুন্দইল ডুবন্ত রাস্তায় ঢল নামছে হাজারো মানুষের। চারদিকে থৈ থৈ জলরাশির মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া এই রাস্তাটির ওপর দিয়ে যখন হালকা স্রোতের পানি বয়ে যায়, তখন এক রোমাঞ্চকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এই ডুবন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে গোড়ালি-সমান বা হাঁটু-সমান পানিতে পা ভিজিয়ে চলনবিলের হিমেল হাওয়া উপভোগ করছেন। কেউ কেউ দল বেঁধে আসছেন, আবার অনেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে একটু অবসরের খোঁজে ছুটে আসছেন এখানে।
ডুবন্ত রাস্তার নয়নাভিরাম এই দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করতে মেতে উঠছেন সবাই। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষকে দেখা যাচ্ছে মুঠোফোনে সেলফি তুলতে বা গ্রুপ ছবি তুলতে। শান্ত জলের মাঝে দাঁড়িয়ে ক্যামেরাবন্দি হওয়া আর চারপাশের দিগন্তজোড়া জলরাশির পটভূমি যেন এক স্বর্গীয় অনুভূতির সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই এই ডুবন্ত রাস্তাটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়। বিকেল হলেই মানুষের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পর্যটকদের কেন্দ্র করে স্থানীয় ছোটখাটো ব্যবসা ও যাতায়াত ব্যবস্থারও বেশ প্রসার ঘটছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন থাকার এবং পানিতে চলাচলের সময় সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
চলনবিলের এই শান্ত-স্নিগ্ধ রূপ আর কুন্দইলের ডুবন্ত রাস্তার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে প্রতিদিনের এই কোলাহল প্রমাণ করে—শহুরে ব্যস্ততা ভুলে মানুষ কতটা ব্যাকুল প্রকৃতির একটু ছোঁয়া পেতে।