তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

স্ত্রীসহ থানার ওসির কক্ষে মা-দক কারবারি আজাদ

Liton mahmud ৯ দিন আগে | ০৬:২৮ PM

রাজশাহী প্রতিনিধি 

মিনার আলম আকাশ, রাজশাহী : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মা-দকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৭টি মা-দক মামলার আসামি ও ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদকে সম্প্রতি তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে-এমন একটি ছবি ও তথ্য গোপন সূত্র পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী সাগরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী আরমিনা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানায় যান ঐ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান উপস্থিত না থাকায় আবুল কালামকে ওসির কক্ষে বা অফিসসংলগ্ন এলাকায় বসে অপেক্ষা করতে এবং তার স্ত্রীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বলে সূত্রটি জানায়।

বিজ্ঞাপন

 

এদিকে, গত ২৩ জুন গোদাগাড়ীতে মা-দকবিরোধী সমাবেশ ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

বিজ্ঞাপন

সভায় উপজেলার মা-দক সমস্যা ও চিহ্নিত মা-দক কারবারিদের বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সভা ও মা-দকবিরোধী কর্মসূচি চললেও মাঠপর্যায়ে পুলিশের অভিযান তেমন জোরালো লক্ষ করা যায়নি। 

 

গত কয়েক দিন ধরে মা-দকবিরোধী অভিযান কার্যক্রম কমে গেছে বলেও পুলিশের একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, চিহ্নিত মা-দক কারবারিদের কেউ কেউ থানায় যাতায়াত করছেন এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি মা-দকবিরোধী সমাবেশের আগে তালিকাভুক্ত মা-দক কারবারি জাহাঙ্গীর আলম থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

বিজ্ঞাপন

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত ১৭ এপ্রিল তিনি থানায় যোগ দিয়েছেন। থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। কারও অভিযোগ থাকলে ফুটেজ যাচাই করে দেখার আহ্বান জানান তিনি। জাহাঙ্গীর আলমের থানায় যাওয়া বা তাকে আপ্যায়নের অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি।

 

এদিকে, মা-দকবিরোধী অভিযানের তথ্য ফাঁস এবং মা-দক কারবারিদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে থানার এসআই সোহেলের বিরুদ্ধে। 

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মা-দক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশকে দেওয়া তথ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে যায়। 

 

বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সোহেল বলেন, তিনি এই থানায় মাত্র এক মাস আগে যোগ দিয়েছেন। এলাকার রাস্তাঘাট ও মা-দক কারবারিদেরও ঠিকমতো চেনেন না। ফলে এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

 

এর আগে গত ১১ জুলাই আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।

বিজ্ঞাপন

 

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি উত্তেজিত হয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

বিজ্ঞাপন

সচেতন মহলের দাবি, মা-দক মামলার আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের থানায় যাতায়াত, পুলিশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ এবং মা-দকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের গাফিলতি বা তথ্য ফাঁসের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে গোদাগাড়ীতে মা-দকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করে প্রকৃত মা-দক কারবারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সেখানকার সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ