সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সংযোগ সড়কগুলোতে সিএনজিচালিত চালকদের অঘোষিত ‘সিন্ডিকেট’ ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বিকেলে তাড়াশ আসার জন্য সিএনজি মেলানো দায় হয়ে পড়ে, অথচ রাত হলেই একই গন্তব্যে দ্বিগুণ ভাড়ায় মিলছে গাড়ি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
সম্প্রতি সিয়াম নামের এক ক্ষুব্ধ যাত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার ওই পোস্টের পর তাড়াশে সিএনজি চালকদের এমন নৈরাজ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্ট্যাটাসে সিয়াম লেখেন, বিকেল বেলা রোডে থেকে তাড়াশ আসার জন্য সিএনজি পেতে গেলে নানা বাহানা শুনতে হয়। চালকরা দাবি করে ‘গাড়িতে গ্যাস নেই’ কিংবা অন্য কোনো অজুহাত দেখিয়ে যাত্রী নিতে অস্বীকৃতি জানায়। মূলত তারা রাত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। কারণ রাত বাড়লেই যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ৫০ টাকা, সেখানে তাড়াশ যাওয়ার কথা বলে ১০০ টাকা দাবি করা হয়।
স্থানীয় যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এটি কেবল এক দিনের ঘটনা নয়। প্রতিদিন বিকেলের পর থেকেই তাড়াশ রুটে সিএনজি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে রাত হলেই নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ টাকা আদায় করে চালকরা।
যাত্রীদের অভিযোগ ও দুর্ভোগের বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন,
যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো সিএনজি চালক বা সিন্ডিকেট এ ধরণের বেআইনি কাজ করে থাকে, তবে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাড়াশের যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যাত্রী ভোগান্তি কমাতে দ্রুতই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, উপজেলা প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর অনতিবিলম্বে তাড়াশ রুটে চলাচলকারী সিএনজিগুলোর অনিয়ম বন্ধ হবে এবং নির্ধারিত ভাড়ায় নিরাপদে চলাচলের পরিবেশ ফিরে আসবে।