তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ ড্রেসিং এর সরঞ্জামেই খাৎনা ও টিউমার অপারেশন বকশিস না পেলেই কটূক্তি, অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স মতিউর রহমান

মোঃ বাবুল মিয়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি

 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১১৫ নম্বর বহির্বিভাগ ড্রেসিং রুমে সরকারি চিকিৎসা ও সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এক বেপরোয়া অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে রোগীদের অস্ত্রোপচার করা এবং সেবার নামে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত স্টাফ নার্সের বিরুদ্ধে।অনুসন্ধানে দেখা যায়, পূর্বে সেন্ট্রাল সি ওটি (Central C OT) থেকে নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বদলি হয়ে আসা সিনিয়র স্টাফ নার্স মতিউর রহমান বহির্বিভাগের সাধারণ ড্রেসিং রুমকে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারের মতো ব্যবহার করছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ন্যূনতম নীতি-নৈতিকতা তোয়াক্কা না করে, ড্রেসিংয়ের সাধারণ ক্যাঁচি ও চিমটা (ফরসেপ) দিয়ে খাৎনা দেওয়া এবং টিউমার কাটার মতো জটিল ও স্পর্শকাতর অপারেশন পরিচালনা করছেন তিনি।অস্ত্রোপচারের জন্য প্রফেশনাল জীবাণুমুক্ত (Sterile) পরিবেশ ও উপযুক্ত সার্জিক্যাল অ্যানেস্থেশিয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও, কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা হচ্ছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ ছাড়া এবং অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির হাতে এ ধরনের অস্ত্রোপচার পরিচালনা করায় রোগীরা মারাত্মক ইনফেকশন, টিস্যু ড্যামেজ, ধনুষ্টঙ্কার এবং রক-্তক্ষরণসহ প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।​বকশিস বাণিজ্য ও স্বজনদের সঙ্গে কটু আচরন বৃহৎ ময়মনসিংহ অঞ্চলের দূর-দূরান্ত থেকে আশা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও প্রান্তিক মানুষগুলো প্রতিনিয়ত এই ড্রেসিং রুমে এসে চরম হয়র-ানি ও জিম্মিদশার শিকার হচ্ছেন। ড্রেসিং বা ছোটখাটো চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘বকশিস’ বা টাকা দাবি করা হয়। চাহিত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা সামান্য দেরি হলেই রোগীর স্বজনদের দিকে ধেয়ে আসে অশালীন গালিগালাজ ও কটু কথা।ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকা দিতে একটু দেরি হওয়ায় আমাদের অপমান করে বলা হয়—’বাড়ির পাশে কি ডাক্তার নেই, শুধু ময়মনসিংহ মেডিকেলই চোখে দেখেন?’ বাধ্য হয়ে রোগীদের মান বাঁচাতে আমাদের নিরুপায় হয়ে টাকা দিতে হয়। আর টাকা হাতে দেওয়া মাত্রই তার ব্যবহারের রূপ বদলে যায়।চুক্তিতে বাসায় গিয়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তাব হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের অনৈতিক কাজের বিষয়ে অভিযুক্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স মতিউর রহমানের কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন,হাসপাতালে সরাসরি এসব খাৎনা বা টিউমারের কাজ করতে গেলে কর্তৃপক্ষের ভয়ে কিছুটা সমস্যা হয়। তবে হাসপাতালের বাইরে বাসায় নিয়ে গেলে আমি নিজে গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করে দেব, সেখানে কোনো ঝামেলার সুযোগ নেই।”

​বৃহৎ এই সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রকাশ্যে সাধারণ সরঞ্জাম দিয়ে অপচিকিৎসা চালানো, রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা এবং বেপরোয়া অর্থ আদায়ের সিন্ডিকেট বন্ধে তদন্ত কমিটি গঠন পূর্বক অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোড় দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ