তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

বাকৃবির হল সংঘ-র্ষ: কঠোর শাস্তির দাবির বিপরীতে সংযমের আহ্বান ছাত্রদলের

Desk Editor 3 hours আগে | ০৮:১৭ PM

বাকৃবি প্রতিনিধি:

 

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সম্প্রতি চারটি আবাসিক হলে সংঘ-র্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাকৃবি শাখা। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছেন, দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘ-র্ষের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকে যাবে। ঘটনার বিচার চেয়েছেন সংঘ-র্ষে আহত হওয়া শিক্ষার্থীরাও। জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

বিজ্ঞাপন

গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যক্তিগত বিরোধ ও আঞ্চলিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে দফায় দফায় সংঘ-র্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পৃথকভাবে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর, একা পেয়ে শিক্ষার্থীকে মা-রধর অভিযোগ ওঠে। এছাড়া চকলেট বো-মা ও ককটেল বিস্-ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। এতে চার হলের মোট আহতর সংখ্যা ১৭ জন। সরেজমিনে দেখা যায়, এই সংঘ-র্ষের কারণে হলের গুরুত্বপুর্ণ স্থাপনা, সিসি ক্যামেরা, মূল ফটক, দরজা-জানালা, ল্যাম্প লাইট ভাঙচুরসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীনের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি আশরাফুল হক ও শামসুল হক হলের মধ্যকার সংঘ-র্ষের শাস্তির সুপারিশ করবে, অন্যটি মাওলানা ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের মধ্যকার সংঘ-র্ষের রিপোর্ট প্রদান করবে।

বিজ্ঞাপন

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরে উপা-চার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের অভিভাবকদের ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। এরপরও তাদের ছাত্রত্ব বহাল থাকবে কি না, সেটিও আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন অমান্য করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেবে।

 

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে প্রশাসনের সম্ভাব্য কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বাকৃবি শাখা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংগঠনের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাডেমিক বহিষ্কারসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে সংগঠন-টি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সমীচীন হবে না, যা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কঠোর শাস্তির পরিবর্তে সংযম, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তারা প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করেন।

বিজ্ঞাপন

 

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তারা জানান, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে হলভিত্তিক মারামারির ঘটনাকে প্রশাসনের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এখানে নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা মাত্রই তারা সংঘ-র্ষে জড়িয়ে পড়েছে, এটি গভীর চিন্তার উদ্রেক প্রকাশ করে। এবিষয়ে কোনো ছাড় পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘ-র্ষের ঘটনা ঘটবে। জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

 

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সংঘ-র্ষে আহত হওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারাও শাস্তির দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাজ করবে, আমাদের কাজ হলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা। বাকৃবিতে নিরাপদ, শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার সুন্দর পরিবেশ তৈরির জন্য যা করা দরকার বাকৃবি ছাত্রদল সেটিই করবে। আমরা শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছি যাতে শিক্ষার্থীদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে ফেলবে এরকম কঠোর সিদ্ধান্ত তারা না নেন। তাদেরকে ধৈর্য্য ও সহমর্মিতা দেখানোর অনুরোধ করেছি। তবে আমরা প্রশাসনিক কোনো কাজকে কখনই বাধাগ্রস্ত করব না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ