তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

Liton mahmud 14 hours আগে | ০৯:২৬ AM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। দেশমাতৃকায়, গণতন্ত্র রক্ষার এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আহত, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং দৃষ্টিশক্তি হারানো সকল বীর যোদ্ধার আত্মত্যাগ ও অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ ১৬ বছরে গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি রচনার পথে যাঁরা শহীদ হয়েছেন কিংবা গ-ুম, খ-ুন ও ক্রস-ফায়ারের শিকার হয়েছেন। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের। শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯০-এর গণআন্দোলনের সকল বীর শহীদকে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে সাংবাদিক, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা ও নিপীড়ন থেকে রেহাই পাননি। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আফতাব, সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি, অ্যাডভোকেট এ. ইউ. আহমদ, ব্যাংকার বি. এম. সাকের হোসাইন সহ অসংখ্য পেশাজীবী হত-্যার শিকার হন। এই ১৬ বছরে ৬৮ জন সাংবাদিক প্রাণ হারান। শুধু জুলাই বিপ্লবেই প্রাণ দেন আরও ৬ জন সাংবাদিক। অনেক সাংবাদিক আহত হন এবং কারাবরণ করেন। পিলখানার হত-্যাযজ্ঞে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা নি-হত হন। শাপলা চত্বরে ব্রাশফায়ারে অসংখ্য আলেম নি-হত হন। গ-ুম ও খ-ুন যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছিল। ভিন্নমতের মানুষের ওপর চলেছে নির্মম নির্-যাতন। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদ, শিক্ষক, ব্যাংকার থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মী—কেউই সেই দমন-পীড়ন থেকে মুক্ত ছিলেন না।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হাসপাতালগুলোর শয্যা, এমনকি মেঝে ও আহত ও গুলিবিদ্ধ ছাত্রদের দিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সে সময় পঙ্গু হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের উদ্দেশে ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নির্দেশনা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ আহতদের চিকিৎসা না দেওয়া এবং কাউকে হাসপাতাল থেকে বের হতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে অনেক আহত ব্যক্তি সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত-্যুবরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

গণঅভ্যুত্থান চলাকালে শহীদ হওয়া অনেকের মর-দেহ প্রশাসনের নির্দেশে যথাযথ সুরতহাল করতে দেওয়া হয়নি; অনেক ক্ষেত্রে মৃত-্যুসনদ ও প্রদান করা হয়নি। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত-্যুবরণকারীদের মৃত-্যুসনদে মৃত-্যুর প্রকৃত কারণ উল্লেখ না করে অন্য কারণ লিখতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শহীদদের মর-দেহ দা-ফনের সময় তাঁদের স্বজনদেরও হয়র-ানি ও হা-মলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। দ্রুত মর-দেহ দা-ফন করায় অনেক ক্ষেত্রেই পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগকে আর ও গুরুতর করে তোলে এবং সে সময় সংঘটিত হত-্যাকাণ্ডের ভয়াবহতার ইঙ্গিত বহন করে।

এত কিছুর পরও ছাত্রসমাজ আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ায়নি। দমন-পীড়ন, গুলিবর্ষণ ও প্রা-ণহানির ঘটনাও তাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। একজনের রক-্তের বিনিময়ে আরও বহু মানুষ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। দেড় যুগের দমন-পীড়ন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সেই অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন এবং উল্লাসে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে লাখো জনতা।

বৃহস্পতিবার ৬ই আগস্ট মুন্সীগঞ্জ সুপার মার্কেট মুন্সীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

মুন্সীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী বিপ্লব হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু, সাধারণ সম্পাদক গুলজার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ খোকা, দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক মইনুদ্দিন আহম্মেদ সুমন, নয়া দিগন্ত পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুস সালাম, যমুনা টেলিভিশনের মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আরাফাত রায়হান সাকিব, মুন্সীগঞ্জ জেলা অনলাইন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রলিন মুন্সীগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি গোলাম আশরাফখান উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সংগ্রাম পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মমিন বিশ্বাস সহ মুন্সীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যবৃন্দগন।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ