৩০ হাজার ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, গেজেট বাস্তবায়নের দাবিতে সুনামগঞ্জে হোটেল শ্রমিকদের বিক্ষোভ
এরশাদুল হক
জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি গেজেট বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের আইনগত অধিকার নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মিষ্টি ও বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে শহরের রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে লাল পতাকা নিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলফাত উদ্দিন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক মিয়া।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া, হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি বদিউজ্জামাল বদরুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বপন মিয়া, প্রচার সম্পাদক আল আমিন, কোষাধ্যক্ষ জিয়াউর রহমান, সদস্য জিষু পাল এবং নারী নেত্রী মরিয়ম বেগমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের অনেক হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও মিষ্টি-বেকারি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের আইনগত অধিকার যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, শ্রম আইনে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বুক, দৈনিক নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি, উৎসব বোনাস, সাপ্তাহিক ছুটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিধান থাকলেও বাস্তবে অনেক শ্রমিক এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি গেজেট দ্রুত বাস্তবায়ন করে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশ থেকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি গেজেট বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।
একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান তারা।