র্যাব-৯ এর অভিযানে সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের ০১ জন গ্রেফতার।
ডেস্ক রিপোর্ট :
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃ-শংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মা-দক উদ্ধার, হত-্যা মামলা, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ-্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়াও যে কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, বাদী মোঃ আব্দুল আহাদ (৫৯) সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানাধীন গৌরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। বিবাদীগণ ও বাদী পরস্পর আত্মীয়-স্বজন। বিবাদীগণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর অসহায়ত্ব এবং বেকার সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে বিবাদীগণ বাদী ও সাক্ষীগণকে জানায় যে, তাদের মাধ্যমে Health care ভিসায় যুক্তরাজ্যে লোক পাঠানো হচ্ছে এবং এ ধরনের একাধিক ভিসা তাদের কাছে রয়েছে।
বিবাদীগণের কথায় বিশ্বাস করে বাদী তার ছেলে আব্দুল আহসান সুহেদকে ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে ১নং বিবাদী মোঃ জসিম উদ্দিনের সহায়তায় Health care ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠান। এর ফলে বাদী ও সাক্ষীগণের মধ্যে বিবাদীগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ৩নং সাক্ষী আব্দুল আহাদ পারভেজ ও ৪নং সাক্ষী মোঃ সায়েম Health care ভিসায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে বিবাদীগণ তাদের জানায় যে, Health care ভিসায় যুক্তরাজ্যে পাঠাতে হলে মোট ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আনুমানিক ৪/৬ মাস সময় লাগবে।
বিবাদীগণ বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৮/০৫/২০২৩ খ্রি. তারিখে ৩নং ও ৪নং সাক্ষীর নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সর্বমোট ৬০ লাখ টাকা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ৩নং ও ৪নং সাক্ষীর বিদেশ গমনের উদ্দেশ্যে মেডিকেল পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। টাকা প্রদান ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর তারা Health care ভিসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
কিন্তু প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও ভিসা প্রক্রিয়ার কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বাদী ও সাক্ষীগণ বিবাদীগণের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় বিবাদীগণ বিভিন্ন অজুহাত প্রদর্শন করে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ৩নং সাক্ষী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জানতে পারেন যে, বিবাদীগণের পরস্পর যোগসাজশে ৭নং বিবাদী রিমি বেগম কর্তৃক প্রদানকৃত কাগজপত্রগুলো জাল ও ভুয়া।
পরবর্তীতে বাদী ও সাক্ষীগণ বিবাদীদের নিকট প্রদত্ত টাকা ফেরত চাইলে বিবাদীগণ টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং হুমকি প্রদান করে। এতে বাদী ও সাক্ষীগণ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে বুঝতে পারেন। উক্ত ঘটনায় বাদী সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সদর কোম্পানি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক রাত ২১.৩০ ঘটিকার সময় সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানাধীন গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের রায়গড় পুরান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার মামলা নং-০৯, তারিখ-০৪/০৮/২০২৬ খ্রি., ধারা-৬(২)/৭/৮(২)/৯(২) মানব পা-চার ও অভিবাসী চোরা-চালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ মূল্যে সিলেটের গোলাপগঞ্জে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের এজাহারনামীয় ০৪নং আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি- কয়েছ আহমদ (৪০), পিতা- ময়নুল হক, সাং- ভাদেশ্বর, থানা- গোলাপগঞ্জ, জেলা- সিলেট।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।