তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

Desk Editor ২১ দিন আগে | ০৮:৪৩ PM

ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

 

এরশাদুল হক
জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ

 

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে নির্মাণকাজ পরিদর্শনে নিম্নমানের ইট, ব-ালু এবং পাথরসদৃশ উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি ইট ভেঙে পাথরের বিকল্প হিসেবে স্তূপ করে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে নির্মাণাধীন ভবনের স্থায়িত্ব, গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

 

 

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বক্তব্যেও বিষয়টি নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনের নির্মাণকাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন কাজে প্রচলিত মানসম্পন্ন পাথরের পরিবর্তে পুরোনো ব্লকজাতীয় পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ব-ালু নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভবনের দেয়ালে আস্তরণ, ইটের গাঁথুনি এবং ফ্লোরের বিভিন্ন কাজে নিম্নমানের ব-ালু ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

 

এ ছাড়া ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত ইটের বড় একটি অংশ নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নির্মাণস্থলের পাশেই ইট ভেঙে পাথরের মতো করে স্তূপ করে রাখা অবস্থায়ও দেখা গেছে। এসব উপকরণ ভবনের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

বিজ্ঞাপন

নির্মাণকাজে নিয়োজিত এক কর্মচারী ভিডিও তে বলেন, আমি কয়েক মাস ধরে এসব মালামাল দিয়েই কাজ করে আসছি। মালামাল পরিবর্তন হতে দেখিনি। এখানে ভালো না খারাপ কাজ হচ্ছে, সেটা আমরা বুঝি না।

 

নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা এক সাইট ম্যানেজারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে ভিডিও তে তিনি বলেন, এসব কাজ ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের। যা কিছু প্রশ্ন করার উনাকে বলেন। আমরা উনার কাজই করছি।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয় বাসিন্দা সাদ্দাম নূরী বলেন, আমি নিজে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে দেখেছি। কাজের মান খুবই নিম্নমানের মনে হয়েছে। ব-ালু, পাথর ও ইট—সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি অর্থে এমন ভবন নির্মাণ হলে ভবিষ্যতে এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।

 

বিজ্ঞাপন

অধ্যক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে ধর্মপাশা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস বলেন, ভবন নির্মাণের গুণগত মান যাচাইয়ের দায়িত্ব প্রকৌশলীদের ওপর ছিল। তাঁর ভাষ্য, প্রকৌশলীরা নির্মাণসামগ্রী দেখে তাঁকে সব ঠিক আছে বলে জানান।

 

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা কলেজের জন্য সরকারি একটি ভবন পেয়েছি, এটা আমাদের জন্য বড় বিষয়। ভবন নির্মাণের সময় উপজেলা প্রকৌশলী খাজা মাঈন উদ্দিন, সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারেক ও পারভেজ ইষেন মালামাল আসার পর এসে দেখতেন এবং আমাকে বলতেন সব ঠিক আছে। আমিও সেটাই মেনেছি।

 

নিম্নমানের ব-ালু, পাথর ও ইট ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ব-ালু, পাথর ও ইট ভালো না খারাপ—এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তাঁরা কখনো আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। ভবন নির্মাণে কী ধরনের পাথর, ব-ালু বা ইট লাগবে, সেটিও আমাকে জানানো হয়নি। তাঁরা এসে শুধু বলতেন মালামাল ঠিক আছে।

বিজ্ঞাপন

 

অধ্যক্ষ আরও বলেন, ভবনের স্ট্রাকচার বা নকশাও আমাকে দেখানো হয়নি। তাহলে মালামালের গুণগত মান সম্পর্কে আমি কীভাবে জানবো?

প্রকৌশলীর বক্তব্যে প্রশ্ন

বিজ্ঞাপন

 

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মোঃ খাজা মাঈন উদ্দিন বলেন, ভবন নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল ঠিক আছে। পুরোনো ব্লকজাতীয় পাথর ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটাও ব্যবহার করা যায়, উনাদের স্টেটমেন্টে আছে।

নিম্নমানের ব-ালু ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, এটা সিলেকশন ব-ালুর চেয়ে ভালো ব-ালু।

বিজ্ঞাপন

 

নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনকে নিম্নমানের ইটের বিষয়ে জানিয়েছি এবং এগুলো পরিবর্তন করতে বলেছি। এখনও পরিবর্তন করা হয়েছে কি না জানি না।

 

বিজ্ঞাপন

 

 

তবে এর এক সপ্তাহ পর পুনরায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযোগ করা ইট সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নির্মাণস্থলে আরও ইট এনে রাখা হয়েছে। বিষয়টি প্রকৌশলীকে জানানো হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যা বলার জেলার সহকারী প্রকৌশলী তারেক স্যারের অনুমতি নিয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

 

 

সহকারী প্রকৌশলীর বক্তব্য

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জ শিক্ষা সহকারী প্রকৌশল -০৩ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সৈয়দ তারেক রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, সব দেখে আসছি, সব ঠিক আছে। ব-ালুগুলো একটু সমস্যা আছে, এগুলো পরিবর্তন করা হবে।

 

পরবর্তীতে প্রায় এক সপ্তাহ পর পুনরায় বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি নির্মাণকাজের সবকিছু ঠিক আছে বলে দাবি করেন। অভিযোগগুলো বিস্তারিতভাবে জানানো হলে তিনি ঠিকাদার মাঈন উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

 

কথোপকথনের পর তিনি জানান, ঠিকাদার তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জেলায় তাঁর আরও বহু কাজ চলমান রয়েছে।

ঠিকাদারের বক্তব্য

বিজ্ঞাপন

 

ভবনের ঠিকাদার মাঈন উদ্দিন নির্মাণস্থলে সাংবাদিকের প্রবেশ ও পরিদর্শন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আমার সাইটে ভিজিট করার অনুমতি কোথায় পেলেন? আমার সাইটে কোনো সাংবাদিক যাওয়ার সাহস পায় না।

 

বিজ্ঞাপন

 

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে অন্য একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ তাঁর বিষয়ে বাইরে কথা বলবে না এবং তাঁর একাধিক সরকারি কাজ চলমান রয়েছে।

তদন্তের দাবি

বিজ্ঞাপন

 

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবনে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্মাণের শুরুতেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে ভবন-টি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

 

 

তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত নির্মাণকাজের নকশা, প্রকল্পের প্রাক্কলন, নির্মাণসামগ্রীর মান নির্ধারণের স্পেসিফিকেশন এবং ব্যবহৃত উপকরণের নমুনা পরীক্ষা করা। পাশাপাশি একজন স্বাধীন প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভবনের নির্মাণকাজের গুণগত মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বিজ্ঞাপন

 

 

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ ও প্রকৌশলগত পরীক্ষার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ