তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

‎বাগেরহাটে নিজ সন্তানকে রাস্তায় ফেলে দিলেন মা, মানবিকতায় পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও

Desk Editor ২০ দিন আগে | ০৩:৫৯ PM
  • ‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট

    ‎বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই বছরের এক শি-শুকে সড়কের পাশে ফেলে রেখে মা ঢাকায় চলে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় শি-শুটিকে উদ্ধার করে আশ্রয় ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা নির্বাহ..

    ‎গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর বারইখালী ইউনিয়নের জেলে পাড়া এলাকার একটি ইটভাটার পাশে দুই বছরের এক শি-শুকে একা ফেলে রেখে তার মা মিতু আক্তার ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান। শি-শুটির কান্না শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং প্রাথমিকভাবে তার দাদির কাছে নিয়ে যান। তবে পারিবারিক বিচ্ছেদের জেরে দাদি শি-শুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এই অমানবিক ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা শি-শুটিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল্লাহর বাসভবনে উপস্থিত হন। ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে শি-শুটিকে নিজের হেফাজতে নেন এবং তার শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পোশাক ও খাদ্যের জোগান দেন, যা স্থানীয় জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনে।

    ‎তদন্তে জানা গেছে, শি-শুটির বাবা মো. পল-াশ এবং মা মিতু আক্তারের মধ্যে প্রায় তিন মাস আগেই বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই অবুঝ শি-শুর ওপর। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই শি-শুটি চরম অবহেলার শিকার হচ্ছিল এবং সর্বশেষ মা কর্তৃক শি-শুকে জনশূন্য রাস্তায় ফেলে যাওয়ার বিষয়টি সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। ভুক্তভোগী শি-শুর দাদি দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করায় শি-শুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। শি-শুটি বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে তার সামাজিক ও পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক কলহের বলি হয়ে একটি শি-শুর এ ধরনের অসহায় অবস্থা সমাজব্যবস্থার অসংবেদনশীলতারই বহিঃপ্রকাশ।

    ‎ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ শি-শুটির বাবা মো. পল-াশের সাথে যোগাযোগ করেন, যিনি বর্তমানে কর্মস্থলে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে শি-শুটির বাবা আগামী সোমবার সশরীরে উপস্থিত হয়ে সন্তানকে নিজের দায়িত্বে নেওয়ার আইনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রশাসনিক নজরদারির অংশ হিসেবে ইউএনও সাময়িকভাবে শি-শুটির ফুফু রেসমা খাতুনের কাছে তাকে হস্তান্তর করেছেন এবং তিন দিনের ভরণ-পোষণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে যে, সোমবারের শুনানিতে শি-শুটির আইনগত অভিভাবকত্ব এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শি-শুটির প্রতি অবহেলা ও তাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

    ‎একজন শি-শুর প্রতি তার জন্মদাত্রী মায়ের এমন দায়িত্বহীন আচরণ এবং পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের উদাসীনতা সমাজে একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ঘটনাটি কেবলমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর অবক্ষয়ের এক করুণ প্রতিফলন, যা ভবিষ্যতে শি-শু অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। শি-শুটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় প্রশাসনের এই মানবিক ও আইনি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করলেও, এ ধরনের অমানবিক পুনরাবৃত্তি রোধে সামাজিক প্রতিরোধের বিকল্প নেই। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পাশাপাশি পরিবারের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে না পারলে এ ধরনের ভুক্তভোগী শি-শুদের জীবন দীর্ঘমেয়াদী হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ