তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

লামায় হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে জমি নিয়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ।

Desk Editor ৩ দিন আগে | ০৯:২৩ PM

লামায় হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে জমি নিয়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ।

 

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজায় জমি-জমা সংক্রান্ত অনিয়ম, প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জমি কেনাবেচায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে হাজিরাম ত্রিপুরা (৫৫)-এর বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

 

হাজিরাম ত্রিপুরা মৃত দেওয়াইশিং ত্রিপুরার ছেলে এবং ৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি জমি-জমা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মধ্যস্থতা করে আসছেন। খতিয়ান, নামজারি, দলিলসহ বিভিন্ন কাগজপত্র করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া এবং জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

বিজ্ঞাপন

সরই ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লাংকম কারবারি পাড়া, কামরিং ম্রো পাড়া, রেংইন কারবারি পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা এসব অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মেরিডিয়ান কোম্পানি ও লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে স্থানীয়দের জমি বিক্রির ক্ষেত্রেও হাজিরাম ত্রিপুরা সহযোগিতা বা মধ্যস্থতা করেছেন।

 

সাবেক হেডম্যানের অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

 

৩০৩ নম্বর ডলুছড়ি মৌজার সাবেক হেডম্যান যোহন ত্রিপুরা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী আমলে আমার কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হেডম্যানের দায়িত্ব নেওয়ায় বিভিন্ন অপপ্রচার ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমি থাকাকালীন সে এ ধরনের কাজ করতে পারতো না। এই প্রতারককে আইনের আওতায় আনা হোক।

 

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, মৌজাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের লোককে আইনের আওতায় আনা উচিত।

 

তবে হেডম্যানের দায়িত্ব পরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রভাব সংক্রান্ত এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন নথি বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এই প্রতিবেদকের হাতে নেই।

বিজ্ঞাপন

 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

 

বিজ্ঞাপন

জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে ভুক্তভোগী হিসেবে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নেটনং ম্রো (৩৯), রিংরং ম্রো (৪৫) ও খামারেং ম্রো (৫৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তাদের অভিযোগ, জমির মালিকানা, কাগজপত্র ও লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে তারা বিভিন্নভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট নথিপত্র ও বিস্তারিত বক্তব্য পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

 

গণসাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ

 

বিজ্ঞাপন

এদিকে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হাজিরাম ত্রিপুরার বিরুদ্ধে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া থেকে গোপনে গণসাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, টংগ্যাঝিরি পাড়া, সবুজায়ন পাড়া ও কম্পানিয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা থেকে মানুষের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

 

তবে এসব স্বাক্ষর কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, কতজনের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং তা কোথায় ব্যবহার করা হবে—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

 

আয়-সম্পদ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধানের আবেদন

 

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত হাজিরাম ত্রিপুরার আয়-উপার্জনের উৎস, সম্পদ-সম্পত্তি, উন্নত জীবনযাপন ও ভোগবিলাসী জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীদের কয়েকজন।

 

তাদের দাবি, তার বৈধ আয় ও সম্পদের উৎস, জমি কেনাবেচা, আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অনুসন্ধানের আবেদন করার কথাও জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

 

অভিযোগকারীরা বলেন, দুদকের অনুসন্ধান হলে হাজিরাম ত্রিপুরার আয়-ব্যয়, সম্পদ-সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তবে তার আয় বা সম্পদ অবৈধ—এমন কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের সিদ্ধান্ত এই প্রতিবেদকের হাতে নেই।

 

বিজ্ঞাপন

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

 

ডলুছড়ি মৌজাবাসীর দাবি, জমি-জমা সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। সংশ্লিষ্ট জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন করের নথি, জমি বিক্রির লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

 

একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। আর অভিযোগ অসত্য হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

 

অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাজিরাম ত্রিপুরার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তার অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

 

তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যথাযথভাবে যুক্ত করা হবে।

 

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ