পূর্বের বদলি বাতিল করলেও কৃষকদের নামে মামলা দিয়ে বদলি হলেন কৃষি কর্মকর্তা, রয়েছে নানা অভিযোগ।
মো: কাজল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো: আব্দুল জব্বারকে কৃষকদের নামে মামলা ও নানা অভিযোগের কারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আদেশে বদলি করা হয়েছে।

এর আগে তার নামে বদলির নোটিশ আসলেও ক্ষমতার প্রভাবে তা বাতিল করে নেন। তবে এবার আর রেহাই পেলেন না ভুরুঙ্গামারী উপজেলার কৃষি অফিসার আব্দুল জব্বার। কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা ও নানা অভিযোগের কারণে তাকে বদলি করা হয় লালমনিরহাট আদিতমারী উপজেলায়। এবং সেখানকার অধীনস্থ কৃষি অফিসারকে পাঠানো হয় ভুরুঙ্গামারীতে।
সম্প্রতি ৭ সেপ্টেম্বর সার সংকট নিয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ ও কৃষি কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বদলি কৃষি অফিসার আব্দুল জব্বার ভুরুঙ্গামারী থানায় কৃষকদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।
মামলার এজাহারে তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫০-৬০ জন অজ্ঞাত করে আসামি করেন। মামলার পর এ ঘটনায় কয়েকজন কৃষককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেক সাধারণ কৃষক বাড়ি ছাড়া হয়ে এদিক সেদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। তবে সাধারণ এ বিষয়ে সাধারণ কৃষকদের দাবি ভিন্ন। তারা বলেন, সরকারি কোন কাজে বাঁধা বা বিশৃঙ্খলা করার উদ্যেশ্য ছিল না তাদের।
অন্য দিকে বদলি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার কে ঘিরে রয়েছে নানা অভিযোগ, সময় মতো ফসল উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের পরামর্শ না দেওয়ায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে প্রকৃত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, ইচ্ছে মতো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়া, সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য না দেওয়া, সাংবাদিকদের উপর চোটে যাওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে ওই কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে।
তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, এক বছর আগে অক্টোবর ২০২৫ সালে ধান রোপণ ও কাটা কৃষিযন্ত্র বিতরণ নিয়েও। তবে অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এর দায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপরে চাপিয়ে তাকে বদলি করানো হয়।
ক্ষমতার দাপটে প্রভাবশালীদের যোগসাজশে একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে তিনি। জানা যায় তিনি ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে ভুরুঙ্গামারীতে কৃষি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনে করে আসছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে বদলির নোটিশ আসলেও তা গোপনে সমঝোতা করে পুনরায় ভুরুঙ্গামারী চাকরি চালিয়ে যান।
এসব বিষয়ে তিনি সংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন, বদলি নোটিশ এসেছে তা বাতিল করা হয়েছে। তবে সে বছর কৃষি অফিসের যাবতীয় উন্নয়ন ও কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় নিয়ে প্রমাণপত্র বা নথিপত্র চাইলে তিনি তা দিবেন না বলেন সরাসরি।
একাধিক অভিযোগের পর ৩ বছরের চাকরি অবসান ঘটলো এবার সাধারণ কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে। মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠে আসে একেরপর এক অভিযোগ। অভিযোগের পর বদলি।
নতুন কৃষি কর্মকর্তার নিকট স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত কৃষক চিহ্নিত করে পরিমাণ মতো সার সরবরাহ করা, কৃষকদের ন্যায্য দাবি অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া ও সম্প্রতি মামলার সুস্থ তদন্ত করে সাধারণ কৃষকদের হয়র-ানি বন্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন তিনি।