লিটন মাহমুদ, মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চাকরিচ্যুত দুই সেনা সদস্যসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে র্যাবের পোশাক, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ, খেলনা পিস্তলসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে শ্রীনগর থানার হরিবাড়ী ব্রিজের পূর্ব পাশে আনোয়ারের অটো গ্যারেজের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল জানতে পারে, একটি সিলভার রঙের টয়োটা মাইক্রোবাস ও একটি লাল রঙের হিরো এক্সব্লেড মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ছনবাড়ী থেকে সিংপাড়ার দিকে যাচ্ছে। পরে হরিবাড়ী ব্রিজ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন দুটি গাড়ি থামানো হয়।
এ সময় মাইক্রোবাসে থাকা এক ব্যক্তি কালো রঙের র্যাবের কটি ও ওয়াকিটকি দেখিয়ে নিজেকে র্যাব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ডিবি পুলিশ তাদের পরিচয় চ্যালেঞ্জ করে। পরে পালানোর চেষ্টা করলে গাড়ির চালকসহ সাতজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শরীয়তপুরের ফরহাদ হোসেন (৪০), নওগাঁর চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য নাদিম মাহমুদ শান্ত ওরফে রায়হান হোসেন (৩০), রাজবাড়ীর চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য সার্জেন্ট মিজানুর রহমান (৪১), বরগুনার আব্দুল আলীম (৩২), মাগুরার সাকিবুর জামান মেহেদী (২৬), ভোলার মেহেদী হাসান সুজন (৩৫) এবং বরগুনার আবু হানিফ (৩২)।
ডিবি পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, শ্রীনগর বাজারের এক কথিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী দেড় কেজি স্বর্ণ নিয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরের দিকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে র্যাব পরিচয়ে আটক করে স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
পুলিশের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিলেন। যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে যাত্রীদের নিজস্ব গাড়িতে তুলে মা-রধর করে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার লুট করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে একটি মাইক্রোবাস, একটি মোটরসাইকেল, তিন-টি র্যাবের কটি, দুটি ওয়াকিটকি, দুটি খেলনা পিস্তল, দুটি জোড়া হ্যান্ডকাপ, তিন-টি র্যাবের লোগোযুক্ত আইডি কার্ড, তিন-টি লাল চেক গামছা, তিন-টি এসএস পাইপ, একটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, একটি লেজার লাইট ও একটি RAB লেখা স্টিকার উদ্ধার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।