সিরাজগঞ্জের তাড়াশে হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.)-এর মাজার শরীফসংলগ্ন একটি পুরোনো ভাঙা মসজিদ থেকে ‘ঐতিহাসিক’ পাথর চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের ওই এলাকায় তাদের আটক করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মো. শহিদুল ইসলাম (৬০), সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মো. জেলহক (৪৭) ও মোছা. তুলি পারভীন (৩৬)।
তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমাম জাফর বলেন, আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার এবং এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হযরত শাহ শরীফ জিন্দানী (রহ.)-এর মাজার শরীফের পাশে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি ভাঙা মসজিদ রয়েছে। মসজিদটির বিভিন্ন অংশ বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সম্প্রতি সেখান থেকে পুরোনো পাথর সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল খালেক, রাশিদুল ইসলাম ও শাহেদুল ইসলামসহ অনেকে বলেন, মাজার শরীফ ও পুরোনো মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এর স্থাপনা ও পুরোনো নিদর্শন সংরক্ষণে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। একই সঙ্গে স্থাপনার কোনো অংশ বা পুরোনো পাথর যাতে চুরি বা নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে মাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর পাথর সরিয়ে নেওয়ার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানা যাবে।