তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী নব দূর্গা পূজা।

Desk Editor ১৫ দিন আগে | ১০:৩১ PM

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে শ্রী শ্রী নব দূর্গা পূজা।

ইমন দেব চৌধুরী।
মৌলভীবাজার।

 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের ইছামতি চা বাগানের শ্রীশ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে গত রোববার, ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে এ পূজা। অন্য মণ্ডপগুলোতে যখন চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ, তখন এই মন্দিরে ঢাকের বাদ্য আর মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।
আয়োজকেরা জানান, গতকাল রোববার দেবীর প্রথম রূপ শৈলপুত্রীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নবদুর্গার আরাধনা। সোমবার পূজা হচ্ছে দ্বিতীয় রূপ ব্রহ্মচারিণীর। এরপর একে একে চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী ও সিদ্ধিদাত্রী রূপে দেবীর পূজা হবে। দশমীর দিন অন্য প্রতিমার সঙ্গে নবদুর্গার প্রতিমাও বিসর্জন দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন


* ১. শৈলপুত্রী (গিরিনন্দিনী): নবরাত্রির প্রথম দিনে এঁর পূজা হয়। হিমালয় রাজের কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করায় তাঁর নাম শৈলপুত্রী। তিনি বৃষভে (ষাঁড়) আরোহণ করেন এবং তাঁর দুই হাতে ত্রিশূল ও পদ্ম থাকে। তিনি দৃঢ়তা ও ধৈর্যের প্রতীক।
* ২. ব্রহ্মচারিণী: দ্বিতীয় দিনে এঁর পূজা করা হয়। ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ তপস্যা। কঠোর তপস্বী রূপের কারণে তাঁর নাম ব্রহ্মচারিণী। তাঁর এক হাতে জপমালা এবং অন্য হাতে কমণ্ডলু থাকে। তিনি জ্ঞান, বৈরাগ্য এবং সংযমের প্রতীক।
* ৩. চন্দ্রঘণ্টা: তৃতীয় দিনে এঁর আরাধনা করা হয়। দেবীর কপালে ঘণ্টার আকৃতির অর্ধচন্দ্র রয়েছে, যা থেকে এক অলৌকিক ধ্বনি বের হয়। দশহাতে অস্ত্রধারী এই দেবী বীরত্ব ও সাহসের প্রতীক। তিনি ভক্তদের ভয় ও নেতিবাচক শক্তি থেকে রক্ষা করেন।


* ৪. কুষ্মাণ্ডা: চতুর্থ দিনে এই রূপের পূজা হয়। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী তাঁর মৃদু হাসির মাধ্যমে মহাবিশ্ব বা ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন। সিংহবাহিনী এই দেবীর আটটি হাত। তিনি সৃষ্টির আদি শক্তি এবং জগতের অন্ধকার দূর করে আলো ছড়ানোর প্রতীক।
* ৫. স্কন্দমাতা: পঞ্চম দিনে এঁর পূজা করা হয়। তিনি যুদ্ধদেবতা কার্তিকের (অন্য নাম স্কন্দ) মাতা। চার হাত বিশিষ্ট এই দেবীর কোলে শি-শু কার্তিক উপবিষ্ট থাকেন। স্কন্দমাতা মাতৃস্নেহ, বাৎসল্য এবং পরম শান্তির প্রতীক।
* ৬. কাত্যায়নী: ষষ্ঠ দিনে এঁর আরাধনা করা হয়। মহর্ষি কাত্যায়নের কঠিন তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী তাঁর কন্যা রূপে জন্ম নেন, তাই তিনি কাত্যায়নী। মহিষাসুর বধের জন্য দেবীর এই রূপের বিশেষ ভূমিকা ছিল। তিনি অধর্ম বিনাশ ও জয়ের প্রতীক।
* ৭. কালরাত্রি: সপ্তম দিনে এই ভয়ংকর রূপের পূজা হয়। ঘন অন্ধকারের মতো কালো গায়ের রং, এলোকেশী এবং চার হাত বিশিষ্ট এই দেবী দুষ্টের দমনে সংহার রূপ ধারণ করেন। তিনি ভয় ও সব রকমের পাপ দূর করার প্রতীক। বাইরে ভয়ংকর হলেও তিনি ভক্তদের শুভ ফল দেন, তাই তাঁর আরেক নাম ‘শুভঙ্করী’।


* ৮. মহাগৌরী: অষ্টম দিনে (মহাষ্টমী) এঁর পুজো করা হয়। কঠিন তপস্যার পর মহাদেব যখন এঁর শরীর গঙ্গার পবিত্র জল দিয়ে ধুয়ে দেন, তখন দেবী অত্যন্ত ফর্সা ও উজ্জ্বল বর্ণ লাভ করেন। শ্বেত বস্ত্র পরিহিতা এই দেবী পবিত্রতা, শান্তি ও সমস্ত পাপ ক্ষালনের প্রতীক।
* ৯. সিদ্ধিদাত্রী: নবরাত্রির শেষ বা নবম দিনে এঁর পূজা হয়। এই দেবী সমস্ত প্রকার অলৌকিক ক্ষমতা বা ‘সিদ্ধি’ প্রদান করেন। চার হাত বিশিষ্ট এই দেবী পদ্মের ওপর উপবিষ্ট থাকেন। তিনি ভক্তদের আধ্যাত্মিক জ্ঞান, পূর্ণতা এবং মোক্ষ (মুক্তি) প্রদানের প্রতীক।

বিজ্ঞাপন

 

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ