সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে বাবার পরিচয় পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে আব্দুর রশিদ নামে এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। একইভাবে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধেও খালুকে বাবা পরিচয় দিয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাহাব উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আব্দুর রশিদ ২০১৬ সালে মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি অভিযোগটি যাচাই-বাছাইয়ে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ কামারখন্দ উপজেলার দশসিকা গ্রামের রুস্তম আলী ও রেহানা বেগম দম্পতির ছেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি পাওয়ার জন্য তিনি নিজের বাবার স্থলে খালু বীর মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীর নাম এবং মায়ের স্থলে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ব্যবহার করেন। কাশেম আলী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
আব্দুর রশিদ ২০১৬ সাল থেকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের ছোট হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে ২০২৩ সালে শিয়ালকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিলে শিক্ষা অফিস তাঁকে ওই বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়।
এদিকে, আব্দুর রশিদের ভাই সালেহ আকরামের বিরুদ্ধেও একইভাবে খালুকে বাবা পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সেনাবাহিনীতে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাশেম আলীর মেয়ে আমেনা খাতুন। তিনি বলেন, “আমি কাশেম আলীর একমাত্র মেয়ে। আমার আর কোনো ভাই-বোন নেই। অথচ তাঁরা আমার বাবার নাম ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চাকরি করছেন।
আমেনা খাতুন বলেন, আব্দুর রশিদকে শুধু সাময়িক বরখাস্ত করলেই হবে না; তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবেদকের নোট: প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার নীতিসম্মত পদ্ধতি।