আবু সাঈম,জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নির্মাণাধীন দুটি হল আগামী ৬ মাসের মধ্যে চালুর দাবি জানিয়েছেন মাদারিপুর ০৩ আসনের এমপি আনিছুর রহমান খোকন তালুকদার। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের পরবর্তী বাজেট দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন এবং প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব দাবি জানান।
বক্তব্যে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছর পার হলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন ও ক্যান্টিন সংকটের সমাধান হয়নি। হল নির্মাণের সময় যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁরা হলের আশায় থাকতে থাকতে স্নাতক শেষ করে চলে যাচ্ছেন। অথচ এখনো হলগুলো শিক্ষার্থীদের থাকার উপযোগী হয়নি।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে ছোট একটি কক্ষ ভাড়া নিতেও মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। অথচ অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসিক আয়ও এর চেয়ে কম। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পের পরবর্তী বাজেট দ্রুত একনেকে অনুমোদন করতে হবে। একই সঙ্গে কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের আর দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে না হয়।
নির্মাণাধীন দুটি হলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ” জবিয়ানদের হল দরকার। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই দুটি হলে শিক্ষার্থীদের ওঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। গতানুগতিকভাবে কাজ করলে হবে না।” বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে আনিছুর রহমান খোকন তালুকদার বলেন, “দীর্ঘদিন গ-ুম ও নির্-যাতনের শিকার হওয়া একজন মানুষ হিসেবে নির্যাতিত মানুষের কষ্ট ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বেদনা উপলব্ধি করতে পারবেন তিনি। এ কারণেই তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিগত ১৭ বছরে গ-ুম ও নির্-যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ শিক্ষার্থীদের পরিবারের আকুতি বোঝার জন্য একজন নির্যাতিত মানুষের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা প্রয়োজন।” এ সময় সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপা-চার্য ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।