তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আলীকদমের গহীন পাহাড়ে নতুন ভবনে ফিরল স্কুলের ঘণ্টা

Desk Editor 50 minutes আগে | ০৮:১৩ PM

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আলীকদমের গহীন পাহাড়ে নতুন ভবনে ফিরল স্কুলের ঘণ্টা

অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়েছিল বিদ্যালয় ও হোস্টেল, চার গ্রামের ৫০-৬০ শি-শুর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়

নজরুল ইসলাম, আলীকদম (বান্দরবান):

বিজ্ঞাপন

অতিবৃষ্টিতে ধসে পড়েছিল বিদ্যালয় ভবন ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল। এতে বন্ধ হয়ে যায় বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার চার গ্রামের ৫০-৬০ শি-শুর পড়াশোনা। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে নয়াপাড়া ইউনিয়নের বুঝিখাল ম্রো প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল। নতুন ভবন পেয়ে আবারও শিক্ষার আলোয় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে পাহাড়ি শি-শুদের।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নবনির্মিত বিদ্যালয় ও হোস্টেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বড় হতে চাই এবং একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই। পাহাড় কিংবা সমতল—প্রত্যেকটি জায়গাই আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, এই পাহাড়েও শিক্ষার আলো পৌঁছে যাক। এখানকার শি-শুরা লেখাপড়া শিখে বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের এলাকার মানুষের জন্য কাজ করুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই স্বপ্ন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেখছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই আমরা সারা দেশে ছুটে বেড়াচ্ছি। আপনারা কেউ আলাদা নন, সবাই একই দেশের মানুষ। এখানে মারমা, চাকমা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, গারো, খুমি ও খাসিয়াসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। সবার রক-্ত লাল, আমরা সবাই বাংলাদেশি।’

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়টির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তিনি বলেন, আলীকদমের গহিন পাহাড়ে অতিবৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়টি ভেঙে পড়ার বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১২ থেকে ১৪ জুলাইয়ের অতিবৃষ্টিতে বিদ্যালয় ভবন ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বিদ্যালয়ের পাঠদান ও আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ১০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। নতুন ভবনে বিদ্যালয় ও হোস্টেলের জন্য পৃথক তিন-টি করে কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা বলেন, নতুন করে বিদ্যালয় নির্মিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ ফিরে এসেছে। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় পাড়া কারবারি দমলয় মুরুং বলেন, চার গ্রামের শি-শুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা এই বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণ হওয়ায় শি-শুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম জানান, শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম, আলীকদম উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার আলী ভূট্টো, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. এ কে এম নজরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুছাফা ভূঁইয়া বাবুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ভবন নির্মাণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার যে সুযোগ ফিরে এসেছে, তা যেন নিয়মিত পাঠদান, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হয়। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার শি-শুরা শিক্ষার সুযোগ পেয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ