ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসা নিয়ে ড. ইউনূসের পরামর্শ চাইল ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিদল
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসা বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিতে ইন্দোনেশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার ইউনূস সেন্টারে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি মিস লিস্তিওয়াতির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, যুব উদ্যোক্তা, কৃষি এবং সামাজিক ব্যবসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
ইন্দোনেশিয়ার সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অধ্যাপক ইউনূসের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং এসব উদ্যোগ কীভাবে দেশটিতে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
বৈঠকে প্রতিনিধিদল অধ্যাপক ইউনূসকে ইন্দোনেশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানায়। দেশটির সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা ও মতামত বিনিময়ের জন্য এ আমন্ত্রণ জানানো হয়। কৃষিনীতি বিষয়ক মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক স্যাম হেরোডিয়ান দেশটির কৃষিমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন এবং কৃষিমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও অধ্যাপক ইউনূসকে ইন্দোনেশিয়া সফরের পৃথক আমন্ত্রণ জানান।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন কৃষি সহযোগিতা ব্যুরোর প্রধান ড. আদে চন্দ্রাদিজায়া, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হারিওয়ান পূজা উইলাপা, আইপিবি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোব-াল কানেক্টিভিটি, কো-অপারেশন অ্যান্ড অ্যালামনাই বিভাগের ভাইস রেক্টর অধ্যাপক ড. ইর. ইস্কান্দার জেড. সিরেগার, ঢাকায় ইন্দোনেশিয়া দূতাবাসের তৃতীয় সচিব রব্বি ফিরলি হারখা এবং দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা আহমাদ চানিফুদ্দিন।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ মতবিনিময়কে স্বাগত জানিয়ে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার প্রসারে সরাসরি অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে শেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি প্রতিনিধিদলকে পরামর্শ দেন, যেকোনো সামাজিক ব্যবসা বা ক্ষুদ্রঋণ উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে তরুণ প্রজন্মকে রাখতে হবে। তরুণদের সমাজে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের শক্তি ও উদ্যমকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার কাজে কাজে লাগাতে পারে।
বৈঠকে ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং গ্রামীণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসমিনা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।