তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপি নেতা কাজী ইব্রাহীম জুয়েল

Md. Mohashin Hossain Chandpur ৪১ দিন আগে | ১০:৪৩ PM

আসন্ন চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে মেঘনাপাড়ের ঐতিহ্যবাহী এ শহরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। সম্ভাব্য প্রার্থী, দলীয় মনোনয়ন ও নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নানা আলোচনা চলছে, তখন সুশীল সমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় উঠে এসেছে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম জুয়েলের নাম।

পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে পৌর এলাকায় তাঁকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছাত্ররাজনীতি থেকে বিএনপির নেতৃত্বে—

চাঁদপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী কাজী পরিবারের সন্তান কাজী ইব্রাহীম জুয়েল ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক জীবনের পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন জুয়েল। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

বিশেষ করে ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটের সময়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতাকর্মীদের পাশে থাকার কারণে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে তাঁর একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় বলে দাবি তাঁর অনুসারীদের।

মামলা-কারাবরণ, হা-মলার অভিযোগ—

বিজ্ঞাপন

কাজী ইব্রাহীম জুয়েলের রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার কথাও সামনে আসে। তাঁর অনুসারীদের দাবি, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২২টিরও বেশি রাজনৈতিক ও জিআর মামলা করা হয়। ২০১৫ সালে প্রায় ছয় মাস কারাবন্দি থাকার সময়ও তিনি সহবন্দী নেতাকর্মীদের খোঁজখবর ও সহযোগিতা করেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান।

এ ছাড়া তাঁর বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হা-মলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর অনুসারীরা বলেন, নানা চাপ ও মামলার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে তাঁকে দূরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

ব্যবসা ও গণমাধ্যমেও সক্রিয়—– রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা ও গণমাধ্যম অঙ্গনেও পরিচিতি রয়েছে কাজী ইব্রাহীম জুয়েলের। তিনি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী হিসেবে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া তিনি চাঁদপুরের স্থানীয় গণমাধ্যম অঙ্গনেও সক্রিয়। তাঁর দায়িত্বে রয়েছে দৈনিক চাঁদপুর সময়, অনলাইন সংবাদমাধ্যম চাঁদপুর টাইমস এবং আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক মতলবের আলো। এসব গণমাধ্যমের স্বত্বাধিকারী, সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।

সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা—-

সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বায়তুল কাদের জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি, ফিরোজা হাফেজিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং আল হেরা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারি ক্লাব, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চাঁদপুর ইউনিট, ডায়াবেটিক সমিতি ও চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, করোনাকালীন মহামারি, বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

পৌর নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে আলোচনা—- এদিকে পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদপুরকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও মা-দকমুক্ত পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উন্নয়নমুখী নেতৃত্বের প্রয়োজন—এমন আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় কাজী ইব্রাহীম জুয়েলের নামও উঠে আসছে বলে স্থানীয়দের একটি অংশ জানিয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের ভাষ্য, তাঁরা এমন নেতৃত্ব চান যিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন এবং পৌরবাসীর নাগরিক অধিকার ও সেবার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবেন। তবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া, দলীয় মনোনয়ন পাওয়া কিংবা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে তাঁর অবস্থান কী হবে—তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর।

বিজ্ঞাপন

চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, সম্ভাব্য প্রার্থী ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা ততই বাড়ছে। সেই আলোচনায় কাজী ইব্রাহীম জুয়েলের নাম কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ