তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

পুলিশ পরিচয়ে তল্ল-াশি, ‘ছিনতাইকারী সন্দেহে’ ৩ জনকে ক্যাম্পাসে এনে মা-রধর

Desk Editor 2 hours আগে | ০১:১০ AM

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে তল্ল-াশির ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও এক সোর্সকে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলে এনে মা-রধর করে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে তা সমাধান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

শিক্ষার্থীরা জানান, টিউশন শেষে রেসকোর্সের গলি দিয়ে ফেরার পথে পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাদের আটকান এবং তল্ল-াশির নামে পকেটে হাত দেন। পরিচয় জানতে চাইলে পুলিশ পরিচয় দিয়ে একজন তাদের শার্টের কলার ধরেন। পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখাতে বললে তারা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তারা পরিচয়পত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে ঈদগাহ থেকে ছেড়ে আসা পুলিশ লাইনস হয়ে ক্যাম্পাসগামী সাড়ে সাতটার বাসে করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

প্রতিবেদকের হাতে আসা ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাস ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাদের মা-রধর করে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেন।

পরবর্তীতে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস নিশ্চিত করেন যে, তাদের মধ্যে দুজন কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ সদস্য ও একজন তাদের সোর্স।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে তারা কৌশলে সাদা পোশাকে টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। দুই শিক্ষার্থীকে সন্দেহভাজন হিসেবে তল্ল-াশি করার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরইমধ্যে তাদের সাথে শিক্ষার্থীদের তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে সেখানে আরও শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর চড়াও হন এবং পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ না দিয়ে জোরপূর্বক বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে মা-রধর করা হয়।

পরবর্তীতে রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে প্রক্টোরিয়াল বডি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পুলিশের উপস্থিতিতে বিষয়টিকে ভুল-বোঝাবুঝি আখ্যায়িত করে সমাধান করা হয়।

প্রক্টর পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ও পুলিশ উভয় পক্ষকেই আরও সচেতন ও পেশাদার আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “আমাদের কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অনেকে সিভিল ড্রেসে (সাদা পোশাকে) কাজ করেন। আজকে যা ঘটেছে, তা শিক্ষার্থীরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারতেন। তারা কি এভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যেতে পারেন? এতে বাইরে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে।”

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “তল্ল-াশির সময় তাদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন শিক্ষার্থীরা, কিন্তু তারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে জোর করে বাসে তুলে তাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা হয়। এখানে উভয় পক্ষেরই ভুল রয়েছে। উভয় পক্ষের কথা শুনে যুক্তিসংগত জায়গায় এসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।”

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ