হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শাপলা ফুল হাতে ভালোবাসা নিবেদনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া শিক্ষিকা তন্নী রহমানের পক্ষে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, শিক্ষকদেরও ব্যক্তিগত জীবন, সংস্কৃতি ও শিল্প-সাহিত্য চর্চার অধিকার রয়েছে। এমন সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষা পরিবারের মধ্যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার মাঝিসাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তন্নী রহমান তাঁর সহকর্মী শিক্ষক স্বামীকে উদ্দেশ করে ব্যতিক্রমী কাব্যিক ভঙ্গিতে শাপলা ফুল হাতে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। পরে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিটি পোস্ট করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সবারই ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের কিছু নিয়মকানুন থাকলেও ফুল হাতে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করায় তিনি খারাপ কিছু দেখছেন না। বরং এটি শিক্ষা পরিবারের মধ্যে ইতিবাচক আমেজ তৈরি করেছে। তন্নী রহমান একজন ভালো শিক্ষক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্ব রয়েছে। সংস্কৃতি, শিল্প ও সাহিত্যচর্চা মানুষের অধিকার। প্রাণবন্ত জীবনাচরণ শিক্ষা পরিবারের মধ্যে ইতিবাচক আবহ তৈরি করতে পারে। কিছু মানুষ নেতিবাচক মন্তব্য করতেই পারেন, তবে তাতে মন খারাপ করার কিছু নেই।
শিক্ষিকা তন্নী রহমান বলেন, কিছু মানুষের নেতিবাচক পোস্ট দেখে তাঁর মন খারাপ হয়। তবে নিজের পেশা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি শান্তিতে রয়েছেন।
শিক্ষক নেতা নয়ন চৌধুরী বলেন, স্বাধীন, ইতিবাচক ও শৈল্পিক জীবনযাপনে শিক্ষকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইতিবাচক বার্তা দেয়। তাঁরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেন।
ছবি: শিক্ষিকা তন্নী রহমান ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রফিকুল ইসলাম।