বর যাত্রীর গাড়ী থামিয়ে ফিল্মী স্টাইলে নববধুকে তুলে নিলো ছাত্র দল নেতা
বিয়ের আগে পালিয়ে যাওয়ার কোনও ঘটনা নয়। বরং রাষ্ট্রীয়, ধর্মীয় যাবতীয় আচার মেনে বিয়ে করে বউ নিয়ে যাওয়ার সময় বরের গাড়ি আটকে আরেকজনের স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গেছে ছাত্রদল নেতা।
যে কাণ্ডটি ঘটিয়েছে, সেই আতিকুর রহমান মিয়াদ কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামে।
সে ছাত্রদলের কর্মী। গত ১৬ই আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে সে ডিউটি পাসও পেয়েছিল। এই ছবিটা সে ডিউটি পাসেরই।
আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক বরের গাড়িটি থামান। এরপর মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে নববধূ তামান্না আক্তারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ নিয়ে গণমাধ্যমে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, ওই মেয়ের সঙ্গে ছেলেটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি।
এ কারণেই ছেলেটি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। মেয়ের পরিবার অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডাকাতি, ভাঙচুর, অপ-হরণের মত ঘটনাতেও কেন অপেক্ষা করতে অভিযোগের? যে ছাত্রদল নেতা সদলবলে গাড়ি ভাঙচুর আরেকজনের স্ত্রীকে অপ-হরণ করতে পারে- তার ক্ষমতার দাপট পরিবারকে অভিযোগ করা থেকে কি ভীত করে না?
তার পরিবারের এই ভীতি দূর করতে রাষ্ট্রযন্ত্র কি ব্যবস্থা নিয়েছে? এই গুণ্ডামি চলতে থাকলে তো আমাদের রাষ্ট্র দরকার নাই!
প্রেম যদি করেও থাকে, অমতে বিয়ে দেওয়া হয়েছে কি না, এসব ডিফারেন্ট আলাপ। অমতে বিয়ে মন্দ হতে পারে কিন্তু অমত থাকলে তো কবুল বলে মত দেওয়ার কথা না!
বিয়ের পর অন্যের বউকে ছাত্রদল তুলে নেওয়ার ফ্রি পাস পাওয়া রাষ্ট্র আমরা দেখতে চাই না! অবশ্যই দল হিসেবে বিএনপি এবং রাষ্ট্রকে এই ইস্যুতে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে!
এ ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ। ক্ষমতার এই উন্মত্ততাকে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামাল না দেওয়া গেলে, দেশ ও সরকারকে ভুগতে হবে।
এদের প্রত্যেককে গ্রেফতার করুন, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
ছবিতে অন্যের স্ত্রীকে অপ-হরণকারী ছাত্রদল নেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে তার ডিউটি পাস।