তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

বাকৃবিতে রাস্তা সংস্কার, রোড লাইট ও যানবাহনের ভাড়া নিয়ে ছাত্রদল নেতার খোলা চিঠি

Desk Editor 1 hour আগে | ১০:৫৭ PM

মেহেরাজ ইমন, বাকৃবি প্রতিনিধি

শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক চলাচলের বিঘ্নতা, অসুবিধা ও সম্ভাব্য সমাধান প্রত্যাশা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের কাছে পরপর দুটি খোলা চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মেজবাউল হক মিজু। যেখানে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ফসিলের মোড় থেকে জব্বার হয়ে ফাস্ট গেট পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকা সড়ক সংস্কার, রোড লাইট স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে যানবাহন ভাড়া-সংক্রান্ত ভোগান্তি নিরসনের দাবি তুলে ধরা হয়।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বরাবর পাঠানো চিঠিতে মেজবাউল হক উল্লেখ করেন, বাকৃবির অভ্যন্তরে ফসিলের মোড় থেকে ফাস্ট গেট পর্যন্ত সড়কটি শিক্ষার্থীদের নিত্যদিনের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এতে অসংখ্য ছোটো বড়ো গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ রয়েছে, যার ফলে গত ছয়-সাত বছর ধরে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। বছর কয়েক আগে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায় এবং রোড লাইট না থাকায় সড়কের আশপাশে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কার এবং রোড লাইট স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

একইদিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপা-চার্য বরাবর দেওয়া দ্বিতীয় চিঠিতে ছাত্রদল নেতা একই সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অটোরিকশা ও মিশুকচালকদের বাগবিতণ্ডা বেড়েছে, যার মূল কারণ অতিরিক্ত ভাড়া দাবি। যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, শহরে দুটি ভিন্ন রঙের অটোরিকশা চলাচল করে। যেদিন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নির্দিষ্ট গাড়ির অনুমতি থাকে না, সেদিন সেসব গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে জব্বারের মোড়, কেয়ার গেট প্রভৃতি স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে চিঠিতে পুনরায় ফসিলের মোড় থেকে ফাস্ট গেট পর্যন্ত রাস্তার বেহাল দশা ও রোড লাইটের অভাবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক কার সার্ভিস চালু করা, ফসিলের মোড় থেকে ফাস্ট গেট পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা এবং সড়কের পাশে রোড লাইট স্থাপনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মো. মেজবাউল হক মিজু বলেন, বাকৃবি আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্যাম্পাসগুলির মধ্যে একটি। সময়ের প্রয়োজনে অনেককিছু হালনাগাদ হয়। প্রযুক্তির যুগে সবকিছুই আধুনিকায়ন করা হলেও বাকৃবির পরিবহন শাখা সেই আগের মতোই আছে। সময়ের প্রয়োজনে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অন্য ক্যাম্পাসগুলিতে (ঢাবি, জাবি, চবি, রাবি, নোবিপ্রবি, ইবি) অভ্যন্তরীন রুটে ইলেকট্রিক কার চালু করা হয়েছে। আয়তন বিবেচনায় বাকৃবিতে ইলেকট্রিক কার চালু করা জরুরি বলে মনে করি।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীরা কেউ সাইকেলে, কেউ রিক্সা বা অটো ব্যবহার করেন। ইদানিং যে সমস্যাটি হচ্ছে রিকশা ভাড়ার ক্ষেত্রে চালক যারা আছে তারা বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। পাশাপাশি জব্বার- ফার্স্টগেট রাস্তা সংস্কারের জন্য একটি চিঠি ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনকে দেওয়া হয়েছে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই একটি সুন্দর ক্যাম্পাস গড়া সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ