দক্ষিণ চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্যোগে হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার সংকটে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা)। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
শনিবার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ইলশা ১৫৪ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে আশ্রয় নেওয়া বন্যাদুর্গত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাহারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন চৌধুরী জাহাঙ্গীরসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শনকালে মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা) ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে সেই তালিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সবসময় অসহায় ও দুঃখী মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব পরিবার এখনো কোনো সহায়তা পায়নি, তাদের কাছেও পর্যায়ক্রমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে। কোনো দুর্গত পরিবার যেন সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
ত্রাণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে তিনি বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক টিম গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঠিক তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী (পাপ্পা) দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির একজন ত্যাগী, পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় সংগঠক হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছাত্রজীবনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির অভিভাবক হিসেবে পরিচিত সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী মরহুম জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান। পিতার রাজনৈতিক আদর্শ, জনসেবার দর্শন ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের দুঃসময়ে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকায় নেতাকর্মীদের কাছে তিনি একজন আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বহু গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকটে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, বন্যা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পর্যায়ক্রমে আরও খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও দুর্গত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনার কার্যক্রমও চলমান থাকবে।