তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

রায়পুরে খাল খননে সদ্য পাকা সড়কে ধস: লাখ লাখ টাকার প্রকল্পে স্থায়ী সুরক্ষার অভাব, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

Desk Editor ২৩ দিন আগে | ০২:১৫ PM

রায়পুরে খাল খননে সদ্য পাকা সড়কে ধস: লাখ লাখ টাকার প্রকল্পে স্থায়ী সুরক্ষার অভাব, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

 

মো: নাজিম হোসেন

রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি:

বিজ্ঞাপন

 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৩ নম্বর চর মোহনা ইউনিয়নে খালের পুনঃখনন কাজের পর পাড়সংলগ্ন সদ্য পাকা সড়ক ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খালের মাটি সরানোর পর সঠিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অতিবৃষ্টির অজুহাতে খালপাড়ের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখন খাদের মুখে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন চর মোহনা ইউনিয়নসহ আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ও শত শত শিক্ষার্থী।

 

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,চর মোহনা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি পোল থেকে থাওদার বাড়ি পোল পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কজুড়ে একাধিক স্থানে বড় বড় ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। সদ্য নির্মিত এই পাকা সড়কটির বিভিন্ন অংশ খালের দিকে দেবে যাওয়ায় যানবাহনের চলাচলের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থান-টি দিয়ে বাবুর হাট বাজার, চর মোহনা ইউনিয়ন পরিষদ, বাবুর হাট উচ্চ বিদ্যালয় এবং চর মোহনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও মালবাহী ট্রলি চলাচলের সময় যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রের দেওয়া তথ্যমতে, চর মোহনা ও উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের পি-২, বিপি-৮ ও বিপি-১৭ খালের ভুইয়াগো রাস্তার মাথা (ঢালী মসজিদ) থেকে বংশী ব্রিজসংলগ্ন ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত ১৬.৪৩৯ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়ে কাজ শেষ করা হয় এবং অব্যয়িত প্রায় ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়। তবে কোটি টাকার খাল খনন হলেও গুরুত্বপূর্ণ পাকা সড়কের স্থায়িত্ব ও খালের পাড় রক্ষায় কোনো টেকসই ‘গাইড ওয়াল’ বা প্রতিরোধক কাঠামো গড়ে তোলা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাটি নতুন পাকা হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কষ্ট কমল। কিন্তু খাল কাটার সময় সড়কের গোড়া থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া এবং পাড় শক্ত না করায় অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা ধসে গেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও ছোট শি-শুরা এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ দিয়ে যাতায়াত করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রা-ণহানি ঘটতে পারে।”

বাবুর হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, “সকাল ও বিকেলে স্কুলের সময় রাস্তায় শিক্ষার্থীদের অনেক চাপ থাকে। বর্তমানে ভাঙা অংশ দিয়ে যানবাহন ও বাচ্চাদের পাশাপাশি চলাফেরা করা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা বা ব্যারিকেড দিয়ে সড়কটি সুরক্ষিত করা না হলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।”

বিজ্ঞাপন

 

সড়ক ধসের বিষয়ে রায়পুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল হাই খান জানান, দীর্ঘ দিন পর এই খালটি খনন করা হয়েছে। কাজ করার সময় স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকলেও মূলত সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির কারণেই খালের পাড়ের মাটি সরে গিয়ে সড়কে ধস নেমেছে।

এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “সড়কের ধসে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিজ্ঞাপন

 

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সড়ক ও খালের সংযোগস্থলে শুধু নামকাওয়াস্তে মাটি বা ব-ালু ফেলে সাময়িক জোড়াতালি না দিয়ে ধসের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। সরকারি কোষাগারে টাকা ফেরত পাঠানোর চেয়ে খালের পাড়ে বাঁশ বা জিও ব্যাগ ও গাইড ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে পাকা সড়কটির স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ