তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

‘লোভী’ কবিতায় পাঠকের হৃদয় ছুঁয়েছেন তরুণ কবি ইয়াহিয়া আহমেদ

Najir Mia হবিগঞ্জ সদর ৩৪ দিন আগে | ১২:৫২ PM

‘লোভী’ কবিতায় পাঠকের হৃদয় ছুঁয়েছেন তরুণ কবি ইয়াহিয়া আহমেদ

 

ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি ঝোঁক, দীর্ঘদিন গোপনে লিখে অবশেষে প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ

 

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন: মোঃ নাজিমুল হাসান (নাজির)

 

অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চায় নিজের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের তরুণ লেখক ইয়াহিয়া আহমেদ। ভালোবাসা, প্রকৃতি, মানুষের আবেগ, না-পাওয়ার বেদনা ও জীবনের নানা অনুভূতিকে সহজ-সরল ভাষায় তুলে ধরে ইতোমধ্যে পাঠকদের নজর কেড়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

 

সম্প্রতি ইয়াহিয়া আহমেদের লেখা ‘লোভী’ কবিতাটি সামাজিক মাধ্যমে পাঠকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, না-পাওয়ার আক্ষেপ, আত্মঅনুশোচনা এবং মনের গভীর অনুভূতিকে আঞ্চলিক ভাষার আবহে তুলে ধরায় কবিতাটি পাঠকের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে।

 

বিজ্ঞাপন

তবে ‘লোভী’ কবিতার সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইয়াহিয়ার দীর্ঘদিনের নীরব সাহিত্যচর্চার গল্প।

 

 

বিজ্ঞাপন

ইয়াহিয়া আহমেদের সাহিত্যপ্রেমের শুরু ছোটবেলা থেকেই। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গল্পের বই পড়তে পছন্দ করতেন। গল্প পড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে লেখালেখিও করতেন তিনি। তবে সেই লেখাগুলো প্রকাশ করার সাহস ছিল না। নিজের লেখা কাউকে না দেখিয়ে ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় লিখে রাখতেন।

 

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লেখালেখির আগ্রহও বাড়তে থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয়ে লেখার সাহস তখনো হয়ে ওঠেনি। লোকলজ্জা ও পরিচিতজনদের প্রতিক্রিয়ার ভয় থেকেই নিজের পরিচয় গোপন রাখতে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে লেখালেখি চালিয়ে যান তিনি।

বিজ্ঞাপন

 

অর্থাৎ, প্রকাশ্যে লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার অনেক আগেই নীরবে একজন লেখক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ইয়াহিয়া।

 

বিজ্ঞাপন

 

সাহিত্য পড়ার ক্ষেত্রে ইয়াহিয়ার পছন্দের লেখকদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা। বিশেষ করে তাঁর ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ ইয়াহিয়াকে লেখালেখির প্রতি আরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

 

বিজ্ঞাপন

বই পড়া, নিজের অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা এবং নিয়মিত লেখালেখি—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে সাহিত্য তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

 

 

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন নিজের পরিচয় গোপন রেখে লিখলেও তাঁর এই নীরব সাহিত্যচর্চার কথা জানতেন অল্প কয়েকজন। তাদের মধ্যে দুজন লেখকের অনুপ্রেরণা ইয়াহিয়ার সাহিত্যজীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

 

তাদের একজন তাঁর বড় ভাইতুল্য লেখক S.H. সইকত। তাঁর লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ইয়াহিয়ার মধ্যেও লেখক হওয়ার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। তবে সেই স্বপ্নের কথা প্রকাশ্যে না এনে নিজের মতো করেই লিখে যেতে থাকেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

 

অন্যদিকে, ইয়াহিয়ার মায়ের সমতুল্য আন্টি রাবেয়া পারভিন মুক্তা তাঁকে প্রকাশ্যে লেখালেখি করার জন্য উৎসাহ দেন। তাঁর অনুপ্রেরণা ইয়াহিয়ার জন্য ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইয়াহিয়াকে বলেছিলেন—ভবিষ্যতে তিনি অনেক বড় লেখক হবেন।

 

বিজ্ঞাপন

এই উৎসাহই ইয়াহিয়ার দীর্ঘদিনের গোপন লেখালেখিকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যের পথে নিয়ে আসার অন্যতম শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

 

ইয়াহিয়া আহমেদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর চালিয়ে যাননি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

 

তবে ব্যবসার ব্যস্ততার মধ্যেও বই পড়া ও লেখালেখির অভ্যাস ছাড়েননি তিনি। সময় পেলেই বই পড়েন, নিজের অনুভূতিগুলোকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান।

 

বিজ্ঞাপন

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা থেমে গেলেও বই ও সাহিত্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি ইয়াহিয়া। বরং নিজের আগ্রহ ও ভালোবাসা থেকেই সাহিত্যকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরে রেখেছেন।

 

‘লোভী’ কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার স্বতন্ত্র ব্যবহার

বিজ্ঞাপন

 

ইয়াহিয়ার ‘লোভী’ কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে প্রচলিত প্রমিত ভাষার পাশাপাশি স্বতন্ত্র কথ্য ও আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।

 

বিজ্ঞাপন

‘দূর থেইকা’, ‘ভালোবাসা জানাইতে গিয়া’, ‘লোভ করলাম তোমারে নিজের করার জন্য’—এ ধরনের শব্দ ও বাক্যরীতি কবিতাটিকে পাঠকের কাছে সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলেছে।

 

প্রকৃতির বিভিন্ন উপমার মাধ্যমেও নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করেছেন ইয়াহিয়া। কখনো লজ্জাবতী গাছ, কখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফে সূর্যের আলো, আবার কখনো বাতাসে দোলা কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে মনের আবেগের তুলনা করেছেন তিনি। ফলে কবিতার অনুভূতিগুলো পাঠকের কল্পনায় আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

 

এর আগে ইয়াহিয়ার ‘চিত্তরঞ্জনের ঘাট’ ও ‘উল্কাপাত’ কবিতাও পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ধারাবাহিকভাবে তাঁর লেখা বিভিন্ন কবিতা পাঠকের কাছে পৌঁছানোয় নবীন এই লেখককে ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে।

 

বিজ্ঞাপন

 

সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি এবার গান লেখার ক্ষেত্রেও নিজের লেখা নিয়ে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইয়াহিয়া আহমেদ।

 

বিজ্ঞাপন

তাল-াশ বিডির প্রতিনিধি তাঁর কাছে জানতে চাইলে সামনে নতুন কোনো গল্প, কবিতা বা সৃষ্টিশীল কাজ আসছে কি না, উত্তরে ইয়াহিয়া জানান, খুব শিগগিরই তাঁর লেখা একটি গান প্রকাশ হতে যাচ্ছে।

 

এ বিষয়ে ইয়াহিয়া বলেন, খুব শিগগির আমার লেখা একটি গান রিলিজ হবে। একজন নব্বইয়ের দশকের নামকরা শিল্পীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, দর্শক-শ্রোতাদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।

বিজ্ঞাপন

 

ইয়াহিয়া জানান, গান-টির দুটি লাইন তিনি নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ওই শিল্পীর একজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গান-টি নিয়ে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।

 

বিজ্ঞাপন

গান-টির প্রকাশিত দুটি লাইন হলো—

 

“তুই তাকালে জোয়ার ভাটা,

বিজ্ঞাপন

চমকে উঠি আমি,

মহাকাশের চাঁদনী রে,

তুই আমি কি তুই হবি?”

বিজ্ঞাপন

 

গান-টি নিয়ে ইয়াহিয়া আরও বলেন, এটি তাঁর জন্য নতুন একটি অভিজ্ঞতা। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সংগীতের জগতেও নিজের লেখা পৌঁছে দিতে চান তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শ্রোতাদের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই নবীন লেখক।

 

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়াহিয়া আহমেদ। তাঁর পিতা মোহাম্মদ শওকত আকবর এবং মাতা শারমিন আক্তার শিরিন।

 

ছোটবেলা থেকে বই পড়া, ব্যক্তিগত ডায়েরিতে গোপনে লেখালেখি, পরিচয় গোপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নিজের পরিচয়ে প্রকাশ্যে আসা—ইয়াহিয়ার সাহিত্যযাত্

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ