তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় পংকী-সাদেক, তৃণমূলে নতুন প্রত্যাশা !.

Desk Editor ৪ দিন আগে | ০২:৫৫ PM

সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় পংকী-সাদেক, তৃণমূলে নতুন প্রত্যাশা !.

 

সিলেট সহ সারাদেশে ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্বের মূল্যায়ন চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা। সিলেট মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য আহ্বায়ক হিসেবে আলোচনায় আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সদস্যসচিব পদে আলোচনায় আজমল বখত চৌধুরী সাদেক। নতুন কমিটিতে কি মূল্যায়িত হবেন আন্দোলন-সংগ্রামের এই দুই পরিচিত মুখ? সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।দীর্ঘদিন পর সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য এই কমিটিকে ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন প্রত্যাশা। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা, দলের দুঃসময়ে ত্যাগ স্বীকার করা এবং দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়নের দাবি উঠছে তৃণমূল থেকে।
এমন পরিস্থিতিতে সিলেট মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য আহ্বায়ক হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকীর নাম। অন্যদিকে সদস্যসচিব পদে আলোচনায় রয়েছেন ছাত্ররাজনীতির একসময়ের পরিচিত মুখ আজমল বখত চৌধুরী সাদেক। যদিও নতুন কমিটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবু এই দুই নেতাকে ঘিরে তৃণমূলের প্রত্যাশা ক্রমেই আলোচনায় আসছে।
আহ্বায়ক পদে আলোচনায় পংকী, তৃণমূলের আস্থার প্রতীক?
সিলেট নগর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা নগরীর ভাতালিতে বেড়ে উঠেছেন। স্থানীয়ভাবে ‘কুট্টি’ হিসেবে পরিচিত পংকী দায়িত্ব পালন করেছেন শহর বিএনপির সভাপতি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে। পাশাপাশি তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের একাধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র এবং ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন।
দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি নগর প্রশাসনেও রয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলন এবং নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকতে হয়েছিল তাঁকে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তৃণমূলের একটি অংশের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তির কারণে তাঁকে আহ্বায়ক হিসেবে দেখতে চান বলে জানাচ্ছেন অনেক নেতাকর্মী। তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দলের দুঃসময়ে ভূমিকা রাখা নেতাদের অভিজ্ঞতা ও ত্যাগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সদস্যসচিব পদে আলোচনায় আজমল বখত চৌধুরী সাদেক
অন্যদিকে সিলেট মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য সদস্যসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আজমল বখত চৌধুরী সাদেক। নব্বইয়ের দশকের ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিতি পাওয়া এই নেতা নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে বেড়ে উঠেছেন। ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তী সময়ে নগর বিএনপির রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি।
দায়িত্ব পালন করেছেন মহানগর বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টিপাইমুখ বাঁধবিরোধী আন্দোলন, এম ইলিয়াস আলীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন এবং বিতর্কিত নির্বাচনের বিরুদ্ধে বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন সাদেক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় বলে জানা যায়। রাজনৈতিক চাপ ও হুমকির মুখে একপর্যায়ে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও দলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন তিনি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে সিলেটের ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।‌ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকার কারণে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান বলে জানাচ্ছেন তাঁর সমর্থকরা। ত্যাগী নেতৃত্বের মূল্যায়ন চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা
সিলেট মহানগর বিএনপির সম্ভাব্য আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের মূল্যায়নের বিষয়টি। তৃণমূলের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে এমন নেতাদের স্থান দেওয়া হবে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং প্রতিকূল সময়েও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।
আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী ও আজমল বখত চৌধুরী সাদেককে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীদের প্রত্যাশারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন, তা নির্ভর করবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে চলমান আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনের গুঞ্জন হিসেবেই বিবেচিত হবে। এখন দেখার বিষয়, সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে তৃণমূলের প্রত্যাশা কতটা প্রতিফলিত হয় এবং রাজপথের পরীক্ষিত নেতারা কতটা মূল্যায়িত হন।
আপনার মতে, সিলেট মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী ও আজমল বখত চৌধুরী সাদেককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা উচিত।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ