১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত রায়পুরের মহিউদ্দিন রুমান।
মো:নাজিম হোসেন রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার ১৮তম ব্যাচে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার কৃতী সন্তান মো. মহিউদ্দিন রুমান। ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সারা দেশের ২০০ জনের মধ্যে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করে জুডিশিয়ারির সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।
মো. মহিউদ্দিন রুমান রায়পুর উপজেলার চরমোহনা গ্রামের পাঁচ কড়ি মাতাব্বর বাড়ির মো. শদুমিয়ার ছেলে। তার এই সাফল্যের খবরে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
মহিউদ্দিন রুমানের শিক্ষাজীবনও ছিল কৃতিত্বে ভরা। তিনি গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৮৭তম স্থান অর্জন করে আইন বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে এলএলবি সম্পন্ন করেন তিনি। বর্তমানে তার এলএলএম পড়াশোনা চলমান রয়েছে।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মো. মহিউদ্দিন রুমান বলেন, ❝সফলতার অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এটি আমার জীবনের একটি লাইফ চেঞ্জিং মোমেন্ট ছিল। এই সফলতার পেছনে অনেকের অবদান রয়েছে। তবে বাবা-মা ও বড় ভাইয়ের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া আমার অনেক শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষী নানাভাবে এ সময়ে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
নিজের বেড়ে ওঠার পরিবেশকে সফলতার পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ❝আমার বেড়ে ওঠার পরিবেশটাই ছিল একটি বড় বাধা। আমাদের গ্রামে শিক্ষার পরিবেশ নেই বললেই চলে। নেশা, জুয়া ও বখাটেপনায় জড়িয়ে অনেক ছেলেমেয়ে অকালে ঝরে পড়ে। এমন পরিবেশ থেকে উঠে এসে নিজের লক্ষ্য ধরে রাখা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে বাবার শাসন ও দিকনির্দেশনার কারণে সেই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে।
১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে মহিউদ্দিন রুমান বলেন, প্রথমে তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে প্রকাশিত ফলাফলটি সত্যিই তার ফলাফল কি না। কারণ ফল প্রকাশের সময় ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে সমস্যা হচ্ছিল। পরে নিজে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফলাফল নিশ্চিত হন।
তিনি বলেন, ❝ফল প্রকাশের শুরুতে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এটা আসল রেজাল্ট কিনা। ওয়েবসাইট ব্লক ছিল। পরে নিজে ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস পেয়ে ফলাফল নিশ্চিত হই। তখন ঘরে মা ও ছোট বোন ছিল। আনন্দে তাদের জড়িয়ে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম।
স্থানীয়রা জানান, মহিউদ্দিন রুমানের এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো রায়পুরের জন্য গর্বের বিষয়। প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পেশায় প্রবেশের এই অর্জন এলাকার তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করেছে।
এলাকাজুড়ে তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার এই অর্জন নিয়ে চলছে প্রশংসা ও শুভেচ্ছার বার্তা।এলাকাজুড়ে দ্রুত এই সুখবর ছড়িয়ে পড়ে এবং সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
মহিউদ্দিন রুমানের পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে তিনি সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এবং রায়পুরের নাম আরও উজ্জ্বল করবেন।