তাজা খবর
বিজ্ঞাপন

জুলাইয়ের স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা: বাকৃবি শিক্ষার্থীদের অপূর্ণতার গল্প।

বাকৃবি প্রতিনিধি:

 

জুলাইয়ের স্বপ্ন এবং আজকের বাস্তবতা: সকল প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বাকৃবি শিক্ষার্থীদের ভাবনা/// জুলাই বদলেছে ইতিহাস, বদলায়নি বাস্তবতা: শিক্ষার্থীদের ভাবনায় অপূর্ণ স্বপ্নের বাংলাদেশ

 

বিজ্ঞাপন

জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। রক-্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে জন্ম নিয়েছিল বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ এক বাংলাদেশের স্বপ্ন। দুই বছর পেরিয়ে সেই স্বপ্নের কতটা বাস্তবায়ন হলো, আর কতটাই বা অধরা রয়ে গেছে সেটা নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন অনুষদের একাধিক শিক্ষার্থী।

 

 

বিজ্ঞাপন

 

“স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করাই কঠিন”

 

বিজ্ঞাপন

পৃথিবীর খুব কম দেশ রয়েছে যারা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি অন্যতম দেশ। এই সবুজ শ্যামলের ছোট্ট দেশটি ৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক-্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্ব ছিনিয়ে এনেছিল। এর পর কেটে যায় পঞ্চাশ টি বছর। এবং আবারও বাংলাদেশকে নিজের অস্তিত্বের জন্য দিতে হয় আরেক রক-্তাক্ত মাস। স্বৈরাচারীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য ২৪ এর জুলাইয়ে অনেক মানুষ তাদের রক-্ত দিয়েছে। তাদের রক-্ত বৃথা যায় নি। বাংলাদেশ আবারও নতুন বিজয়ের মুখ দেখতে সক্ষম হয়। কিন্তু কেন জানি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা হয় না। বারবার আমরা যেন সেই পুরোনো বাংলাদেশকেই ফেরত পাই। বলা হয়ে থাকে যে, ”স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন”। মনীষারা যেন এই দেশকে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে এ কথাটি বলে গিয়েছেন। জুলাইয়ের মূল কেন্দ্র ছিল কোটা সংস্কার এবং মেধার মূল্যায়ন। কিন্তু এই মেধার মূল্যায়ন কতটা হচ্ছে সেটা একরকম প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং অসততার কাছে শিক্ষার্থীদের রক-্ত যেন বারবার মূল্যহীন হয়ে পড়ছে।

 

 

বিজ্ঞাপন

মোছা: আফিয়া মোবাশ্বিরা

তৃতীয় বর্ষ

কৃষি অনুষদ

বিজ্ঞাপন

 

 

“স্বপ্নের বাংলাদেশ এখনো অধরা”

বিজ্ঞাপন

 

 

জুলাই মাস এলেই দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের নানা স্মৃতি সামনে চলে আসে। এই সময়টি অনেকের কাছে পরিবর্তনের প্রতীক, আবার অনেকের কাছে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও ক্ষতির স্মারক। জুলাইয়ের আন্দোলনের মাধ্যমে এক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীরা এক নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছিল,আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। আদৌ কি সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি?কিছু আশা পূরণ হলেও বেশিরভাগই এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সাম্প্রতিক সময়ে,দেশে খ-ুন,রাহাজানি,ধর-্ষণ আমাদেরকে মাঝেমাঝে ভাবুক করে তোলে। বিচারহীনতা, বিচারকার্য দীর্ঘায়িত হওয়া এখনো আমাদের দেশে মুখ্য সমস্যা। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের এমন একটি পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে তারা নির্ভয়ে ক্লাস করতে পারবে, পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে এবং নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে। জুলাইয়ের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু সেই মতভেদ যেন শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।

বিজ্ঞাপন

 

 

মো: রাফিউল হাসান রনি

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় বর্ষ

ফুড ইন্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগ, কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ

 

বিজ্ঞাপন

 

 

“ক্যাম্পাসে পুরোনো রাজনীতির নতুন চেহারা, কাটেনি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা”

বিজ্ঞাপন

 

 

২০২৪ সালের জুলাইয়ে অগণিত ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ, সাহস এবং এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। রাজপথে তরুণদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল বৈষম্যহীন সমাজ, আইনের শাসন, নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবি। সেই আন্দোলন কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল না; এটি ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতিগত পরিবর্তনের প্রত্যাশা। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে আজ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার একটি স্পষ্ট ব্যবধান চোখে পড়ছে। শিক্ষাঙ্গনের বাস্তবতাও আশাব্যঞ্জক নয়। যে ক্যাম্পাসকে দলীয় প্রভাব,গেস্টরুম কালচার, সন্ত্রাস ও হল দখলের রাজনীতি থেকে মুক্ত করার প্রত্যাশা ছিল, সেখানে নতুন পরিচয়ে পুরোনো প্রবণতার পুনরাবৃত্তির অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখনো এমন একটি ক্যাম্পাসের অপেক্ষায়, যেখানে পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতা, যুক্তি ও পারস্পরিক সম্মান বেশি মূল্য পাবে।

বিজ্ঞাপন

 

মোঃ তৌফিক হাসান

দ্বিতীয় বর্ষ

বিজ্ঞাপন

ভেটেরিনারি অনুষদ

 

 

বিজ্ঞাপন

“ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, নীতির পরিবর্তন হয়নি”

 

জুলাই কেবল একটি মাসের নাম নয়; এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে তরুণদের সাহসী অবস্থানের প্রতীক। ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সকল পরাশক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অবস্থান এ যুগের প্রত্যেক মানুষের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকবে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আগামীর যে বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিল তা যেনো জীবনের এই প্রবাহমান স্রোতে বিলীন হয়ে যাওয়ার মতো। শিক্ষা অথবা রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে যে পরিবর্তনের জন্য শত শত জীবন খুবই অল্প বয়সে ঝরে গিয়েছিল তার যথার্থতা হয়তো আমরা কেউই রাখতে পারলাম না। নীতি নির্ধারকের পরিবর্তন মানেই যে নীতির পরিবর্তন হবে এটা ভাবাই হয়তো মানুষের ভুল ছিল। সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিরপেক্ষ প্রশাসন, কার্যকর আইনের শাসন, রাজনৈতিক সহনশীলতা, নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বাস্তব নিশ্চয়তা। অন্যথায় যে স্বপ্নকে কেন্দ্র করে একটি প্রজন্ম ইতিহাস রচনা করেছিল, তা ধীরে ধীরে অপূর্ণ প্রত্যাশা ও দীর্ঘশ্বাসের প্রতীকে পরিণত হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

 

রকিবুল হাসান রকিব

তৃতীয় বর্ষ

বিজ্ঞাপন

কৃষি অনুষদ

বিজ্ঞাপন

আপনার মতামত জানান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
হোম
লাইভ