ঢাকায়-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআইভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন।
ডেস্ক রিপোর্ট :
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন করেছেন।
আজ সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাটে অবস্থিত হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টারে’ আধুনিক এআইভিত্তিক ‘অটো ফাইন সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আজ একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজির প্রবণতা কে করছে—মালিকপক্ষ, শ্রমিক ফেডারেশন কিংবা পুলিশ—তা বিবেচনা না করে সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় সবকিছু রেকর্ড করা হবে। এর ফলে অপরাধমূলক এ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে। সাধারণ মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় মহাসড়ককে সম্পূর্ণভাবে চাঁদাবাজিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে কোনো ধরনের তিন চাকার যান বা অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হবে না। কেউ আইন অমান্য করলে হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। তিনি হাইওয়ে পুলিশের প্রধানকে এ বিষয়ে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ। এতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিক ও সময়োপযোগী এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপিত ৪৯০টি পিলারে থাকা এআই ক্যামেরার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেকিং, ভুলভাবে ওভারটেকিং, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, বিপরীত পাশে গাড়ি চালানোসহ অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন।
প্রযুক্তিনির্ভর এ ব্যবস্থায় কোনো যানবাহন আইন লঙ্ঘন করলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি শনাক্ত হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট গাড়ির তথ্য সরাসরি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ডাটাবেজে পাঠানো হবে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের মাধ্যমে গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে মামলার বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।
এসএমএস পাওয়ার পর গাড়ির মালিকরা ঘরে বসেই যেকোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
তবে কোনো যানবাহন বারবার আইন লঙ্ঘন করলে বিআরটিএর বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গাড়ির নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।