সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ (টিপু) ও তাঁর সহযোগীদের দখলে থাকা চাঁদপুরের হাইমচরের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এর মাছের ঘের এর মাছ বিক্রয়ের ঘটনায় পুলিশের এক সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবিরকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। এটি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.মো.লুৎফর রহমান। চাঁদপুর পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে এ ঘটনার সত্যতা কতটুকু আছে, কোনো দূর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেন দাখিল করবেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৫ আগস্ট হাইমচর থানার ওসির নির্দেশে ওই থানার এসআই মো.জাকির হোসেন মাছের ঘেরে জাল ফেলে কয়েক লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে পাশ্ববর্তী জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করেন। তবে মাছ বিক্রির কথা স্বীকার করলেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।
তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে স্থানীয় লোকজন টিপু নগরের মাছের ঘের থেকে মাছ এবং বাগান থেকে ফল-ফসল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। এজন্য এখানে কী পরিমাণ মাছ আছে দেখতে আমরা জাল ফেলি। পরে সেগুলো বিক্রি করা হয়। সেই টাকা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কথা হয় হাইমচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন,আমরা গত ১৫ আগস্ট ওসি সাহেবের নির্দেশে টিপু নগর থেকে যে মাছ ধরেছি, সেগুলো পাশের জেলার হায়দারগঞ্জে নিয়ে ৩৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সেই মাছ বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার দায়িত্ব ওসি সাহেবের। কিন্তু ওসি সাহেব গত ১৯ আগস্ট থানা থেকে বদলী হয়ে চাঁদপুর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত হন।
নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেন মো. শাহ আলম। এ ব্যাপারে ওসি শাহ আলম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। কারণ আমি ২৩ আগস্ট এখানে যোগদান করি।
বর্তমান হাইমচর উপজেলার ইউএনও মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি গত ২৩ আগস্ট এই উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করি। টিপুনগর থেকে যে মাছ বিক্রি হয়েছে সেটা উন্মুক্ত নিলাম বা দরপত্রের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে জেনেছি। কিন্তু সরকারের অধিনে থাকা কোনো কিছু বিক্রি করতে হলে নিলামের মাধ্যমেই বিক্রি করতে হয়। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো নিলাম আয়োজন করেনি বা আমাদেরকেও জানায়নি। মাছ বিক্রির অর্থও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরের হাইমচরের আলোচিত ‘টিপুনগর’ এখন আদালতের নিয়ন্ত্রণে। সেখানকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখভালের জন্য হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) রিসিভার নিয়োগ দিয়েছেন আদালত।