সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা এলাকায় ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় জেলেরা। নদীর পানির প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের এ উদ্যোগে একদিকে যেমন বাড়ছে মাছের উৎপাদন, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। জীবিকার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অনেক জেলে পরিবারে ফিরছে আর্থিক সচ্ছলতা।
একসময় ফুলজোড় নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা এলাকার অসংখ্য জেলে। তবে নদীতে প্রাকৃতিক মাছের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাদের আয়-রোজগার। বছরের বেশির ভাগ সময় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো তাদের। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেন স্থানীয় উদ্যোক্তা ও জেলেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলজোড় নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁশ, ড্রাম ও জালের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে মাছ চাষের খাঁচা। এসব খাঁচায় তেলাপিয়া, পাঙ্গাস ও বিভিন্ন প্রজাতির কার্প মাছ চাষ করছেন উদ্যোক্তারা। নিয়মিত খাবার সরবরাহ ও পরিচর্যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর মাছ বাজা-রজাত করা হচ্ছে।
স্থানীয় মাছচাষিরা জানান, খাঁচায় মাছ চাষের জন্য আলাদা জমির প্রয়োজন হয় না। নদীর প্রবহমান পানিতে মাছ চাষ করা সম্ভব হওয়ায় এ পদ্ধতি তাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তুলনামূলক কম জায়গায় মাছ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় অনেকেই এ পেশায় আগ্রহী হচ্ছেন। পাশাপাশি মাছ বিক্রি করে অর্জিত আয় দিয়ে সংসারের খরচ, সন্তানদের লেখাপড়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে পারছেন তারা।
সলঙ্গার ফুলজোড় নদীপাড়ের এক জেলে সমিতির সদস্য বলেন, ❝আগে সারাদিন নদীতে মাছ ধরেও তেমন আয় হতো না। এখন খাঁচায় মাছ চাষ করে আগের তুলনায় ভালো আয় করতে পারছি। এতে আমাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচও চালাতে পারছি।
এদিকে স্থানীয় মৎস্য বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শে এ চাষ পদ্ধতির সম্ভাবনা আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উন্নত মানের পোনা নির্বাচন, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, পানির গুণাগুণ পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে খাঁচায় মাছ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে ফুলজোড় নদীকে কেন্দ্র করে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রয়োজন যথাযথ নজরদারি।
সব মিলিয়ে ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ এখন রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা এলাকার জেলেদের জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের পথ। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে সিরাজগঞ্জের মৎস্য খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।