চাঁদপুরের ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসা অনলাইন প্রতারক চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ৪৬টি সিম কার্ড—যার মধ্যে দুটি ভারতীয় সিম—এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর জেলা পুলিশের পুলিশ মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গত ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ভোরবেলা ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অভিযান কার্যক্রম সমাপ্ত করে অভিযানকারী দল চাঁদপুরে ফিরে আসে। আজ ৮ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রতারক চক্রটি ফেসবুক থেকে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো এডিট করে ফেক ফেসবুক পেজ ও ফেক হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলত। এরপর ওইসব পেজে ইলিশ মাছসহ ফার্নিচার, কলম, জুতা, বেবি টয়, অনলাইন জবসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির ভিডিও, শর্ট রিল ও ফেক কমেন্ট তৈরি করে লোভনীয় অফার ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন বুস্ট পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিত।
ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তারা অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো অথবা সরাসরি অডিও কলে নাহিদ, জাবেদ, সনি মিয়া, হাজী আব্দুল কাদের, সাকিবসহ বিভিন্ন ভুয়া নামে নিজেদের প্রকৃত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত।
প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে চক্রটি ভুয়া ঠিকানা, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করত। পাশাপাশি নকল ভাউচার তৈরি করে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করত। পরে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত পণ্য সরবরাহ না করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল চক্রটি।
এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলা নং-১১১, জিআর-৯৭৮/২৬, তারিখ-২১/০৮/২০২৬ ইং, ধারা-২১ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ তৎসহ ৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে এবং মামলা নং-০৫, জিআর-১০২৪/২৬, তারিখ-০১/০৯/২০২৬ ইং, ধারা-২১/২২ সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ তৎসহ ৪০৬/৪২০ পেনাল কোডে পৃথক মামলা রুজু হয়।
মামলা দুটির সূত্র ধরে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরে নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), পিতা-ইকতার, মাতা-জয়তুন বেগম ওরফে জয়তুন নেসা বেগম, সাং-আমতলা, কলামনখালী, ৫নং ওয়ার্ড; চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), পিতা-মৃত মোশারফ শেখ ওরফে মোশাই, সাং-নওয়াগ্রাম (শেখ বাড়ি, মধ্যপাড়া), ৩নং ওয়ার্ড; রাতুল হোসেন নবেল (২৫), পিতা-সরোয়ার শেখ, সাং-নওয়াগ্রাম (শেখ বাড়ি, মধ্যপাড়া), ৩নং ওয়ার্ড; এবং শহিদুল শেখ (২৩), পিতা-দিদার শেখ, সাং-নওয়াগ্রাম (শেখ বাড়ি, মধ্যপাড়া), ৩নং ওয়ার্ড। তাদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে।
পুলিশ জানিয়েছে, একই ঘটনায় এর আগে গ্রেফতার হওয়া আরও দুইজনসহ এ পর্যন্ত অনলাইন প্রতারণা চক্রের মোট ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন রয়েছে। অনলাইনে প্রতারণা রোধে চাঁদপুর জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান।