চাঁদপুর সদর উপজেলার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানঘাটা জিটি রোড দক্ষিণ শেখবাড়ি এলাকায় পৈত্রিক জমিতে বৈধভাবে গৃহ নির্মাণে বাধা, হয়র-ানি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে নুর-ই আলম সিদ্দিকী ও তাঁর স্ত্রী শাহজাদী আরাফাত শিউল এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শেখ শফিকুর রহমান। মামলাটি বর্তমানে এডিএম কোর্টে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শেখ শফিকুর রহমানের দাবি, তিনি পৈত্রিক সূত্রে ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ জমির মালিক। ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ চাঁদপুর পৌরসভায় ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে পৌরসভা গত ১৩ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ০০০৭২ নম্বর স্মারকে তাঁর ভবনের নকশা অনুমোদন করে।
শফিকুর রহমানের অভিযোগ, নকশা অনুমোদনের পরও প্রতিপক্ষের বাধার কারণে তিনি নিজ জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে পারছেন না। এমনকি জমি পরিমাপের সময়ও বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, তাঁর জমিতে গৃহ নির্মাণ ঠেকাতে চাঁদপুর পৌরসভায় আবেদন করা হলেও জমির দলিল, খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে পৌরসভা তাঁর নির্মাণ অনুমোদন বহাল রাখে।
এদিকে একই সম্পত্তি নিয়ে পৌরসভায় ৩৩৯ নম্বর একটি হোল্ডিং সৃষ্টির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা বা বৈধ কাগজপত্রের সঙ্গে হোল্ডিংয়ের আবেদনকারীর কোনো সম্পর্ক নেই। হোল্ডিং সৃষ্টির প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে চাঁদপুর সদর পৌরসভায় বৈধ কাগজপত্র নিয়ে হোল্ডিং এর ব্যাপারে কথা বললে তারা বলেন, আমরা যথাযথ নিয়ম মেনেই দিয়েছি। তবে, বিধি মোতাবেক যদি না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ভূক্তভোগী আবেদন করতে পারেন।
শফিকুর রহমানের অভিযোগ, নুর-ই আলম সিদ্দিকী ও শাহজাদী আরাফাত শিউল তাঁদের পদ প্রদবীর প্রভাব ব্যবহার করে ওই হোল্ডিং সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর পৈত্রিক জমির ওপর একটি মুরগির খোঁয়াড় স্থাপন করে রেখেছেন। ফলে পৌরসভার অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের জমিতে বাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাদী আরাফাত শিউল। তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাড়িতে থাকি না। আমার বাবার জায়গা সম্পর্কে তিনি ভালো জানেন। এছাড়া আমার সঙ্গে জমিজমা নিয়ে কোনো ঝামেলা নেই।
ভুক্তভোগী শফিকুর রহমান আরও জানান, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তিনি আইনি আশ্রয় নিয়েছেন। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাঁদপুর আদালতে ৪১০/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন তিনি। মামলাটি বর্তমানে এডিএম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শেখ শফিকুর রহমান তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তিতে নির্বিঘ্নে বসবাস ও গৃহ নির্মাণের সুযোগ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার দাবি করেছেন।