মোঃ বাবুল মিয়া ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, যথাযোগ্য মর্যাদা ও ত্যাগের মহিমায় মিনহাজ-উল-কুরআন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে জিকরে ইমাম হুসাইন (আ.) ও শোহাদায়ে কারবালা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কারবালার ঐতিহাসিক চেতনা ও আহলে বায়তের প্রতি গভীর ভালোবাসা স্মরণে এই বিশেষ আত্মশুদ্ধি ও আলোচনা সভাল আয়োজন করা হয়।
উক্ত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জস্থ ঐতিহাসিক লালকুঠি পাক দরবার শরীফের গদ্দীনশীন পীর আল্লামা শাহ সূফী খাজা মোহাম্মদ সুজাউদ-দৌলা আল-মুজাদ্দেদী। মাহফিলে সহ-সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন একই দরবার শরীফের পরিচালক ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা শাহ সূফী খাজা মোহাম্মদ আলাউল হক অলি আল-মুজাদ্দেদী।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশীদ আলম (অব.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রিজভী।
মাহফিলে প্রধান ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে কারবালার প্রান্তরে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গী-সাথীদের ঐতিহাসিক ও বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের তাৎপর্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সংগ্রাম শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং তা যুগে যুগে মানবজাতিকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার প্রেরণা যোগায়। ইসলামকে কলঙ্কমুক্ত রাখতে এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রকৃত আদর্শ সমুন্নত রাখতে কারবালার শহীদরা যে অনন্য নজির স্থাপন করে গেছেন, তা মুসলিম উম্মাহর জন্য চিরন্তন গাইডলাইন।
সভাপতির বক্তব্যে লালকুঠি পাক দরবার শরীফের পীর সাহেব বলেন, ইসলামের মূল বাণী হলো শান্তি, মানবতা এবং সহনশীলতা। আহলে বায়তের প্রতি ভালোবাসা এবং ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের আদর্শ বুকে ধারণ করে সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার দূর করার আহ্বান জানান।
উক্ত মাহফিলে মিনহাজ-উল-কুরআন ইন্টারন্যাশনালের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ওলামায়ে কেরাম এবং দূর-দূরান্ত থেকে আগত বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।