লামার প্রতিনিধি চেয়ে সাংবাদিক নজরুলের স্মারকলিপি
নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলার ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন লামার নাগরিক ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম।
২০২৪ সালে গঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে লামা উপজেলার কোনো প্রতিনিধি ছিল না। সর্বশেষ ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নতুন করে জেলা পরিষদ গঠন করা হলেও প্রকাশিত তালিকায় লামা উপজেলা থেকে কোনো প্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
লামা উপজেলার কৃষি, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে লামার মানুষের মতামত, সমস্যা ও উন্নয়ন চাহিদা যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ❝আমার প্রশ্ন কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়। আমার প্রশ্ন হলো—লামা কেন বারবার জেলা পরিষদের প্রতিনিধিত্বের বাইরে থাকছে?
এ বিষয়ে আগামী ২২ আগস্ট ২০২৬, শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন সাংবাদিক নজরুল ইসলাম। স্মারকলিপির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, বান্দরবান; বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও দেওয়ার কথা রয়েছে।
স্মারকলিপিতে লামা উপজেলার ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আইন ও প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা, লামা থেকে প্রতিনিধি না থাকার কারণ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এবং জেলা পরিষদের উন্নয়ন পরিকল্পনায় লামা উপজেলার জনগণের মতামত ও উন্নয়ন চাহিদাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বলেন, ❝লামা থেকে আমরা এমন কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, যা অন্য কোনো উপজেলার অধিকার ক্ষুণ্ন করবে। আমরা চাই জেলার অন্যান্য উপজেলার মতো লামার মানুষের কথাও যথাযথভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকুক।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খোলা চিঠিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বরং একজন লামার নাগরিক হিসেবে ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবি।
লামা উপজেলার এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।