জয় বাংলা ‘র বিদায় হয়েছে, জিন্দাবাদের বিজয় হয়েছে: লস্কর মো: তসলিম
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম বলেছেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মাস চলছে। তখন সারাদেশে ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বাংলা’। বক্তৃতার আগে জয় বাংলা, বক্তৃতার শেষে জয় বাংলা। এখন কি সেটা আছে? নেই। জয় বাংলার বিদায় হয়েছে, যে পরিভাষাটা এসেছিল ওপার থেকে। আর এখন জিন্দাবাদের বিজয় হয়েছে। আশা করি জিন্দাবাদ এদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে। জিন্দাবাদের শিকড় অনেক মজবুত। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে, তারা জয় বাংলাকে চায় না।
শনিবার (১১ জুলাই) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজিত ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লস্কর মো. তসলিম বলেন, আজ আমরা যে পরিবেশে স্বাধীনভাবে একত্রিত হয়ে কথা বলতে পারছি, তা সহজে অর্জিত হয়নি। অতীতে আমাদের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছে। কয়েকজন একসাথে বসলেই আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হতো। এমনকি আমাদের জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করারও চেষ্টা করা হয়েছে। একই সময়ে একটি গোষ্ঠী দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ বিদেশে পাচার করছিল। কিন্তু আল্লাহর রহমতে দেশের তরুণ-যুবক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনে সেই অপশক্তির পতন ঘটেছে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির মাসে আমরা আন্দোলনে শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সুস্থতা ও ধৈর্যের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। একই সাথে শহীদ পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, দেশের কল্যাণ, শ্রমিক জনতার অধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, যাতে কোনো স্বৈরাচারী শাসন আর কখনো দেশে ফিরে আসতে না পারে।
জুলাই আন্দোলনে নিহতদের বিচার দাবি করে লস্কর মো. তসলিম বলেন, এ আন্দোলনের সূচনা ছাত্ররা করলেও জীবন দিয়েছেন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক। তাই শ্রমিকদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা শহিদদের কখনো ভুলব না। স্থানীয়ভাবে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের কবর জিয়ারত, পরিবারের খোঁজখবর নেয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব।
এ সময় জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন করার কথাও বলেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের তালবাহানা বা প্রতারণা জনগণ মেনে নেবে না। আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারবে, নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। শ্রমিক-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে কাজ করতে হবে।
সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. রমজান আলী।
কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি খালেদ হাসান জুম্মনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাখার উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আজিজুল হক, মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং অধ্যক্ষ মোসাদ্দেক ভূঁঞা।
সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চার শতাধিক শ্রমিক প্রতিনিধি অংশ নেন। বক্তারা শ্রমিকদের অধিকার, কল্যাণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং শ্রমিকদের মধ্যে ঐক্য ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আশরাফুল ইসলাম রাজন
কিশোরগঞ্জ