জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়:
এক সময় কাঁদা আর জলাবদ্ধতার কারণে বছরের পর বছর দুর্ভোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। ছিল না বিদ্যুৎ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য কিংবা নাগরিক সেবার নিশ্চয়তা। দীর্ঘ ৬৮ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয় পঞ্চগড়ের ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহল। এক যুগে বদলে গেছে সেই জনপদের মানচিত্র। তবে এখনও কিছু উন্নয়নকাজ অসমাপ্ত থাকায় হতাশা রয়েই গেছে বাসিন্দাদের।
যে পথে একসময় হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলতে হতো, সেই পথেই এখন ছুটে চলছে যানবাহন। এক সময়ের বিচ্ছিন্ন জনপদ আজ দেশের মূলধারার সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলেছে। এটাই পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলসহ জেলার ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহলের বর্তমান চিত্র। দীর্ঘ ৬৮ বছর রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে আসে নতুন সূর্য। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর হয় ভারত-বাংলাদেশ স্থলসীমান্ত চুক্তি। বাংলাদেশের মানচিত্রে যুক্ত হয় পঞ্চগড়ের ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহল। নাগরিকত্বের স্বীকৃতির সঙ্গে শুরু হয় উন্নয়নের নতুন যাত্রা।
একসময় চিকিৎসা কিংবা বিদ্যালয়ে যেতে সীমান্ত পেরোনোর শঙ্কা ছিল, আর এখন শি-শুরা বাড়ির পাশের বিদ্যালয়েই পড়াশোনা করছে। কৃষিতেও এসেছে নতুন সম্ভাবনা। বেড়েছে উৎপাদন, বদলেছে মানুষের জীবনমান।
বিলুপ্ত ছিটমহলের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া নতুন প্রজন্ম এখন বড় স্বপ্ন দেখতে শিখেছে। তারা চায় উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা আর কর্মসংস্থানের আরও সুযোগ।
মফিজার রহমান ডিগ্রি কলেজর অধ্যক্ষ মো: নুরুল্লাহ ও সাবেক গাড়াতি ছিটমহলের চেয়ারম্যান ও ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি পঞ্চগড়-নীলফামারীর সভাপতি মফিজার রহমান জানান,উন্নয়নের এই গল্পে এখনও রয়েছে কিছু অপূর্ণতা। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নির্মিত ডি-সেট সেন্টারটি পড়ে আছে পরিত্যক্ত। চালু হয়নি ডাকঘরও। আর পুলিশ ফাঁড়ি নির্মাণের উদ্যোগ থেমে আছে সীমানা প্রাচীর নির্মাণেই। দ্রুত ডি -সেট সেন্টার,ডাকঘরটি চালু করার জন্য সরকারের নিকট জোরদাবী জানান।
আর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভীন বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলের স্থানীয়দের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে অবশিষ্ট সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। অচল অবকাঠামো চালু এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হবে কার্যকর উদ্যোগ।
এক যুগে বদলে গেছে রাস্তা, ঘরবাড়ি, শিক্ষা আর জীবনযাত্রা। এখন বিলুপ্ত ছিটমহলের মানুষের একটাই প্রত্যাশা অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হোক, আর উন্নয়নের এই যাত্রা পৌঁছে যাক প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায়।